‘নারীর চোখে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে স্কুটিতে চেপে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরছেন চার ভ্রমণকন্যা। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ‘ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ-ভ্রমণকন্যা’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবার বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় বেড়ালেন এই চার তরুণী। তারা হলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ডা. সাকিয়া হক ও ডা. মানসী সাহা তুলি, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার নবীনগর এলাকার মাঝিকাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস শুভা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী শামসুন নাহার সুমা।
এ বছরের ৬ এপ্রিল থেকে চার পর্বে বাংলাদেশের ২১টি জেলা ঘুরেছেন চার ভ্রমণকন্যা। গত ২৭ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে যাত্রার মধ্য দিয়ে তাদের পঞ্চম ধাপের কর্মসূচির সূচনা হয়। এ যাত্রায় তাদের সঙ্গে ছিলেন আরেক ভ্রমণকন্যা ঢাকার বিএএফ শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুশফিকা রহমান নিঝুম। ২৮ আগস্ট সকালে পটুয়াখালী কালেক্টরেট বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা। এরপর প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটায় আকর্ষণীয় বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন পাঁচ তরুণী।
পরদিন (২৯ আগস্ট) বরগুনা জেলার বরগুনা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেয়েদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তালতলী উপজেলার বৌদ্ধমন্দির ও বেতাগী উপজেলার ঐতিহাসিক বিবিচিনি মসজিদসহ উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো ঘুরে দেখেন তারা। এখান থেকে বিদায় নেন নিঝুম।
গত ৩০ আগস্ট পিরোজপুরের পেয়ারা বাগান, রায়েরকাঠি জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখে ঝালকাঠি পৌঁছান চার ভ্রমণকন্যা। সেখানে গাবখান সেতু, কীর্তিপাশা জমিদার বাড়িসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন তারা। ৩১ আগস্ট বিকালে বরিশালে পৌঁছান চার তরুণী। ওইদিন স্কুটির চাকা ঘুরিয়ে উজিরপুরের সাতলা-আগৈলঝাড়ার বাগদা এলাকার শাপলার বিল ঘুরে দেখেন তারা।
শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য স্থান পরিদর্শনের পর হালিমা খাতুন বলিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, বাল্যবিবাহ, আত্মপ্রতিরক্ষা, খাদ্য ও পুষ্টি এবং বয়সন্ধিঃকালীন স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করেন ভ্রমণকন্যারা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফখরুজ্জামান খান জানান, দোতলার হলরুমে চার তরুণীর সঙ্গে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীদের এই আলোচনায় আগ্রহের কোনও কমতি ছিল না শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী শুভা বলেন, ‘আমরা ভ্রমণকন্যা আপুদের মাধ্যমে বাল্যবিয়ের কুফল ও আমাদের করণীয় সম্পর্কে জানতে পেরেছি, সচেতন হয়েছি।’ একই শ্রেণিতে অধ্যয়নরত বিথীর কথায়, ‘বয়সন্ধিঃকালীন যেসব বিষয় ও সমস্যার কথা আমরা ভ্রমণকন্যা আপুদের মাধ্যমে জেনেছি, তা আগে জানতাম না ও বুঝতাম না।’
হালিমা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েদের সঙ্গে আলোচনা শেষে দুপরের পর চার ভ্রমণকন্যা বরিশাল থেকে মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখে রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) শরীয়তপুর থেকে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে পঞ্চম পর্বের যাত্রার সমাপ্তি টানেন তারা।
ভ্রমণকন্যাদের দলনেত্রী ডা. সাফিয়া হক বলেছেন, ‘সর্বত্রই আমরা মানুষের কাছ থেকে সুব্যবহার ও কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পেয়েছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য দেশ, দেশের মানুষ ও স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা। বিশেষ করে নারীদের সামনে এগিয়ে চলতে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছি। কীভাবে দেশ দেখতে, চলতে, মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়; সেই ব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের চেষ্টা করেছি আমরা। নিরাপদ সড়ক, বাল্যবিয়ে, বয়সন্ধিঃকালীন দৈহিক মানসিক পরিবর্তন ও সমস্যা এবং আত্মরক্ষার বিষয়গুলো তাদের সামনে তুলে ধরেছি।’








