ট্রাভেলগ

মুখোমুখি পিট-জোলি, মিটিমিটি হাসেন উইল স্মিথ!

হিটলার এ. হালিম
২৫ নভেম্বর ২০১৮, ২২:২৭আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ২২:২৭

মুখোমুখি পিট-জোলি, মিটিমিটি হাসেন উইল স্মিথ! একটা ঘরে ঢুকতেই চোখ ছানাবড়া। ব্র্যাড পিট দাঁড়িয়ে। তার সামনে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। দু’জনের কারও মুখই মলিন নয়। বরং স্বল্প আলোয় উদ্ভাসিত। তবে কি বিচ্ছেদ পর্ব শেষে ফের মিলন হয়েছে হলিউডের এই দুই তারকার? আলো আঁধারিতে ছাওয়া ঘরে মনে এমনতর ভাবনা ডানা মেললো। তখনই উইল স্মিথকে দেখলাম সোফায় বসে ওই দু’জনের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। বিভ্রম নয়তো!

না, বিভ্রম নয়। জোলি আর পিট মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকায় এমন মনে হয়েছিল। পেছন থেকে আমার স্ত্রী ডাকছে, ‘জোলির সঙ্গে ছবি তুলবে?’ মাথা নেড়ে ‘না’ বুঝিয়ে নিকোলাস কেজের সঙ্গে ছবি তুলি। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে মাদাম তুসো জাদুঘরের একটি কক্ষের অভিজ্ঞতা এগুলো। তবে সেখানে ঢোকার সময় বিশ্বের সব তাবড় নেতাদের দেখে এসেছি।

জাদুঘরে ঢুকতেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার সঙ্গে দেখা। আমার স্ত্রী দাঁড়িয়ে গেলো দু’জনের পাশে। তাদের সামনে আলোয় ঝলমল করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার সঙ্গে পোজ দিলাম। ওই কক্ষেই মিষ্টি হাসি ছড়াচ্ছেন প্রিন্সেস ডায়ানা। দাঁড়িয়ে গেলাম তার পাশে।

প্রিন্সেস ডায়ানার মোমের মূর্তির পাশে লেখক তবে আমি আছি হিটলারের খোঁজে! তাকে অবশ্য পাওয়া গেলো না। আমাদের বড় ছেলে দিব্য নমস্তে ঢঙে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ছবি তুললো। মহাত্মা গান্ধীর লাঠি ধরে দাঁড়ালো ছোট ছেলে কাব্য। ভেতরে ঢুকতে এমন আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের দেখা মিললো।

একটু ভেতরে ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে মার্ক জাকারবার্গ। সবার সঙ্গে ছবি তুলছেন তিনি। পাশে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন। চকিতে মনে পড়ে গেলো, এ বছরের মে মাসে মার্কিন মুলুকে গিয়ে আইনস্টাইনের বাড়ি দেখে এসেছি। তাহলে এখন তার সঙ্গে ছবি তোলা নয় কেন! তাঁর মতো কোমরে হাত দিয়ে ছবি তুলতে অনেক কসরত করতে হলো।

যতই ভেতরে যাচ্ছি কারও চেয়ে কেউ কম নন এমন মানুষদের দেখা মিলছে। হেঁটে যাচ্ছি, দেখি হাঁটু মুড়ে বসে আছেন মার্কিন গলফার টাইগার উডস। আমেরিকার অরল্যান্ডোতে গিয়ে বাটলার লেকের পাড়ে টাইগার উডসের নীল রঙের বাড়ি দেখেছি। এবার স্বচক্ষে তাকে দেখলাম! দিব্য বসে পড়লো তার সঙ্গে ছবি তুলতে।

মুখোমুখি পিট-জোলি, মিটিমিটি হাসেন উইল স্মিথ! আরেকটু ভেতরে যেতে দেখা মিললো বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের সঙ্গে। দু’হাত বাড়িয়ে তিনি এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছেন যেন ভেসে আসছে ‘দেখো, দেখো, এ শাম বড়ি দিওয়ানি’ গানটি। পাশেই দাঁড়িয়ে সিনিয়র ডন অমিতাভ বচ্চন। শশ্রুমণ্ডিত গম্ভীর মুখে তাকিয়ে আছেন তিনি। মনে হচ্ছে এখনই বলে বসবেন, ‘ডন কো পাকাড় না মুশকিলই নেহি, না মুমকিন হ্যায়!’

মুখোমুখি পিট-জোলি, মিটিমিটি হাসেন উইল স্মিথ! একটা কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে যাওয়ার সময় ঠিক হাতের বাঁ-পাশে চোখে পড়ে গেলো পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনকে। হাত উঁচিয়ে নাচের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে। পেছনের পর্দায় পাঁচ মিনিট পরপর দেখানো হচ্ছে তার বিখ্যাত নাচ-গান। পাশেই বক্সে রাখা রঙিন উইগ (পরচুলা) ও প্লাস্টিকের বড় চশমা। দিব্য আর কাব্য উইগ ও চশমা পরে দাঁড়িয়ে গেলো পপসম্যাটের পাশে।

এই হলো মোটামুটি ব্যাংককের মাদাম তুসো জাদুঘরের একাংশের গল্প। পুরোটা বলে দিলে তো আর দেখার আগ্রহ থাকবে না কারও। ও হ্যাঁ, ভালো কথা— মার্গারেট থ্যাচার, অপরাহ উইনফ্রে, জুলিয়া রবার্টস, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, পাবলো পিকাসো, জনি ডেপ, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর সঙ্গেও দেখা হয়েছে আমাদের। মানে তাদের মোমের মূর্তির সঙ্গে।

গত ৩ নভেম্বর বেলা করে ঘুম থেকে উঠে আমরা পড়িমরি দৌড় নাশতা করতে ছুটলাম। হোটেলের নাশতার একটা শেষ সময় আছে। আরেকটু দেরি হলে ছুটে যেত বরাদ্দকৃত খাবার। নাশতা সেরে ব্যাংকক শহরের সুকুমভিত এলাকা (সই ১৩) থেকে একটা ট্যাক্সি ক্যাবে চেপে বসলাম আমরা চারজন।

মুখোমুখি পিট-জোলি, মিটিমিটি হাসেন উইল স্মিথ! মেট্রো রেললাইনের নিচ দিয়ে চলছে ট্যাক্সি ক্যাব। এ-ভবন, ও-ভবন থেকে এই মার্কেট, সেই মার্কেট দেখতে দেখতে কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছে গেলাম সিয়াম সেন্টারে। যানজট কম থাকায় সময় লাগলো কম। ট্যাক্সির মিটারে ভাড়া উঠলো ৫৭ বাথ (এক বাথ সমান বাংলাদেশি ২ টাকা ৬৫ পয়সা)।

ভাড়া মিটিয়ে মেট্রো রেলের সিঁড়ি বেয়ে আমরা তরতর করে ওপরে উঠে সিয়াম সেন্টারের নিচতলা থেকে টিকিট সংগ্রহ করলাম। টিকিট আগেই কাটা ছিল। সিয়াম ওশান ওয়ার্ল্ড ও মাদাম তুসো জাদুঘরের টিকিট একসঙ্গে নেওয়ায় বড়দের জন্য লাগলো ১ হাজার বাথ (পৃথকভাবে কাটলে লাগতো জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ বাথ), আর ছোটদের জন্য ৮০০ বাথ করে দিতে হলো।

সিয়াম সেন্টার পেছনে ফেলে আমরা ছুটছি সিয়াম ডিসকভারি বিল্ডিংয়ের পানে। তখন ছিল বেজায় গরম। মনে হচ্ছিল গা পুড়ে যাচ্ছে! একটা ভবনের পেটের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে বের হওয়া হিমেল হাওয়া গায়ে মাখতে মাখতে পৌঁছে গেলাম সিয়ামি ডিসকভারিতে। সেখানেই মাদাম তুসো জাদুঘর। এটি যাত্রা শুরু করে ২০১০ সালে। এখানে বিখ্যাত তারকা ও ব্যক্তিত্বদের সব রেপ্লিকাই মোমের তৈরি। লিফটের ৬ নম্বর বোতাম টিপে দাঁড়িয়ে রইলাম আমরা চারজন। চিন্তা কীসের! লিফটই নিয়ে যাবে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।

/জেএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম