সোনালি রোদ্দুরে আঁকা নীল আকাশে উড়ছে নানান রঙের ঘুড়ি। এগুলোতে সাপ, মোটু-পাতলু, ঈগল, বাংলাদেশের পতাকাসহ শিশুদের পছন্দের বিভিন্ন কার্টুন চরিত্রের আদল। এছাড়া ওড়ানো হয়েছে ড্রাগন কাইট, সিরিজ কাইট, ট্রেন কাইট, বিশাল পকেট কাইট, স্ট্যান্ড কাইট, লায়ন ড্যান্স, রোমাঞ্চকর জর্বিং বল। কেউ একে অন্যের সুতা কাটছেন। কখনও একটি ঘুড়ি অন্যটিকে ছাড়িয়ে উঠে যাচ্ছে নীলিমায়। কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে সাগরের ঢেউয়ের শব্দে এমন বর্ণিল ঘুড়ি ওড়ানোর সুযোগ পেয়ে পর্যটকরা অনেকেই ফিরে গেলেন শৈশবে।
শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঘুড়ি উৎসবে দেখা গেছে এসব চিত্র। কক্সবাজারের বালিয়াড়িতে শুক্রবার শুরু হয় দুই দিনের ঘুড়ি উৎসব। এই আয়োজনের মূল স্লোগান— প্রকৃতি পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার, ধর্ম যার যার উৎসব আনন্দ সবার। আজ শেষ দিনে পর্যটকসহ স্থানীয়রা নানান রঙ-বেরঙের ঘুড়ির খেলা উপভোগ করছেন। এর মধ্যে থাকছে হট এয়ার বেলুন উড্ডয়ন, ঘুড়ি কাটা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী। সবশেষে সন্ধ্যায় ওড়ানো হবে ফানুস।
প্রতি বছরের মতো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে ঘুড়ি উৎসব আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মৃধা বেনু বলেন, ‘চীন, সাংহাই ও সিঙ্গাপুরে অনেক রঙ-বেরঙের ঘুড়ি কিনে আকাশে উড়িয়ে অনেক আনন্দ পেয়েছি। তাই দেশেও এমন আয়োজন করেছি। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি ওড়ানোকে ধরে রাখতে ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দিতেই এই প্রয়াস।’
শুক্রবার ঘুড়ি উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘ঘুড়ি যেমন আকাশে ওড়ে, একইভাবে যুদ্ধাপরাধী রাজাকার মুক্ত আকাশে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও চেতনা উড়বে। ঘুড়ি ওড়ানো আমাদের জাতীয় জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করতে ঘুড়ি উৎসব হতে পারে একটি মাধ্যম। বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি নিয়ে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে উৎসব হলে বিদেশি পর্যটকরা সৈকতে আসতে উদ্বুদ্ধ হবে।
আরও পড়ুন-
কক্সবাজার সৈকতের আকাশে উড়ছে ডলফিন-মাছরাঙা-অক্টোপাস!








