বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথে মধ্যপ্রাচ্যের গন্তব্যগুলোর আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন—আইএটিএর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে সবচেয়ে বেশি যাত্রীর গন্তব্য সৌদি আরবের জেদ্দা।
আইএটিএর ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচলের সবচেয়ে জনপ্রিয় শহর সৌদি আরবের জেদ্দা। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে জেদ্দাগামী যাত্রীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ ১২ হাজার ৫০০। এটি দেশের মোট আন্তর্জাতিক যাত্রী-প্রস্থানের প্রায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রায় মধ্যপ্রাচ্যই সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ যাত্রী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গেছেন, যা মোট আন্তর্জাতিক যাত্রীপ্রবাহের ৫৩ শতাংশ। এ তালিকায় জেদ্দার পর রয়েছে কুয়ালালামপুর, রিয়াদ ও দুবাই।
আইএটিএর তথ্য বলছে, বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে যাত্রা করা মোট যাত্রীর সংখ্যা ২০২৩ সালে ছিল প্রায় ৫৮ লাখ। ফলে প্রবাসী শ্রমিক, ওমরাহ পালনকারী এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথের যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বিমানযাত্রীর সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। নতুন ফ্লাইট চালু, ভিসা নীতি, মৌসুমি চাহিদা ও এয়ারলাইনগুলোর ফ্লাইট সূচির কারণে কোনো কোনো রুটে পরবর্তী সময়ে অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে।
চার রুটের চিত্র
জেদ্দা — ৬ লাখ ১২ হাজার ৫০০ যাত্রী: বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি যাত্রী গেছেন জেদ্দায়। ২০২৩ সালে মোট আন্তর্জাতিক যাত্রী-প্রস্থানের ১০ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল এই গন্তব্যের। ওমরাহ, হজ এবং সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের কারণে এই রুটে যাত্রী চাহিদা বেশি।
কুয়ালালামপুর — ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ যাত্রী: দ্বিতীয় অবস্থানে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর। বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে কর্মসংস্থান, ব্যবসা, শিক্ষা ও পর্যটনের জন্য নিয়মিত বিপুলসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন। ২০২৩ সালে মোট আন্তর্জাতিক যাত্রীর ৮ দশমিক ২ শতাংশ কুয়ালালামপুরগামী ছিলেন।
রিয়াদ — ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ যাত্রী: তৃতীয় অবস্থানে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে রিয়াদগামী যাত্রীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০, যা মোট আন্তর্জাতিক যাত্রীর ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।
দুবাই — ৩ লাখ ২৯ হাজার ১০০ যাত্রী: চতুর্থ অবস্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। ব্যবসা, কর্মসংস্থান, পর্যটন ও ট্রানজিট—বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশিদের কাছে দুবাই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্য। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে দুবাইগামী যাত্রীর অংশ ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
এক নজরে
জেদ্দা: ৬,১২,৫০০
কুয়ালালামপুর: ৪,৭৭,৪০০
রিয়াদ: ৩,৯৮,৫০০
দুবাই: ৩,২৯,১০০
অর্থাৎ, এই চারটি গন্তব্যের মধ্যে জেদ্দার সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথে যাত্রী চলাচল সবচেয়ে বেশি। আর সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচলের সবচেয়ে বড় বাজার হলো মধ্যপ্রাচ্য। ২০২৩ সালে প্রায় ৩০ লাখ যাত্রী বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে গেছেন, যা মোট আন্তর্জাতিক যাত্রী-প্রস্থানের ৫৩ শতাংশ।









