বালুর বিস্তীর্ণ প্রান্তর, খাড়া বেলেপাথরের পাহাড় আর পাথর কেটে তৈরি প্রাচীন সমাধি, সৌদি আরবের আলউলা যেন মরুভূমির মধ্যে লুকিয়ে থাকা এক ইতিহাসের শহর। প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্যের পাশাপাশি হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতার নিদর্শন দেখতে প্রতি বছরই ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করে এই অঞ্চল।
আলউলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি হেগরা। এটি সৌদি আরবের প্রথম ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল। প্রাচীন নাবাতীয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ এই নগরীতে মরুভূমির বেলেপাথর কেটে তৈরি শতাধিক সমাধি রয়েছে। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, এখানে সংরক্ষিত ১১১টি স্মারক সমাধির মধ্যে ৯৪টির সম্মুখভাগে রয়েছে নানা ধরনের অলংকরণ।
হেগরার পাথুরে সমাধিগুলোর স্থাপত্য দেখলে বোঝা যায়, প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই অঞ্চলের মানুষের নির্মাণকৌশল কতটা উন্নত ছিল। প্রাচীন কূপ, পানির ব্যবস্থা, দেয়াল ও বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষও সেই সময়ের জীবনযাত্রা ও প্রকৌশল দক্ষতার পরিচয় দেয়।
শুধু হেগরা নয়, ইতিহাস ছড়িয়ে আছে পুরো আলউলায়
আলউলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল দাদান। একসময় দাদান ও লিহইয়ান রাজ্যের রাজধানী ছিল এই প্রাচীন নগরী। পাথর কেটে তৈরি সমাধি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের পাশাপাশি কাছেই রয়েছে জাবাল ইকমাহ। পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা শত শত প্রাচীন লিপি ও চিত্রের কারণে জায়গাটিকে আলউলার ‘খোলা আকাশের গ্রন্থাগার’ও বলা হয়।
ইতিহাসের বাইরে আলউলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও কম আকর্ষণীয় নয়। বিশাল বেলেপাথরের গঠন, মরুভূমির উপত্যকা, সবুজ মরূদ্যান এবং বিখ্যাত এলিফ্যান্ট রক এখানকার ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। সরকারি পর্যটন গাইডেও হেগরা, এলিফ্যান্ট রক, ওল্ড টাউন, মরূদ্যান ও শারান নেচার রিজার্ভকে আলউলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানের তালিকায় রাখা হয়েছে।
ভ্রমণের আগে যা জানা দরকার
আলউলার বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থান নির্দিষ্ট ট্যুর বা গাইডেড অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ঘুরতে হয়। যেমন জাবাল ইকমাহে স্বনির্ভরভাবে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। সংগঠিত ট্যুরের মাধ্যমে সেখানে যেতে হয়। সীমিত সংখ্যক ট্যুর থাকায় আগেভাগে বুকিং করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
তাই সৌদি আরব ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে আলউলাকে শুধু মরুভূমির গন্তব্য হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রাচীন নাবাতীয় সভ্যতার নিদর্শন, পাথরে খোদাই করা ইতিহাস আর অসাধারণ মরুভূমির ভূদৃশ্যের কারণে আলউলা হতে পারে মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণের এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।









