দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের কুক দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণ এখন আগের চেয়ে সহজ হচ্ছে। কম পর্যটকের ভিড়, নীল লেগুন, পাহাড়, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন ও সমৃদ্ধ পলিনেশীয় সংস্কৃতির কারণে যারা তুলনামূলক নিরিবিলি দ্বীপভ্রমণ চান, তাদের জন্য ২০২৬ সালে এটি হতে পারে আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য।
কুক দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় ও জনবহুল দ্বীপ রারোটোঙ্গার আয়তন মাত্র ৬৭ বর্গকিলোমিটার। ছোট এই দ্বীপে রয়েছে ত্রিভুজাকৃতির পাহাড়, নীল পানির লেগুন, সবুজে ঘেরা দুর্গম অভ্যন্তরীণ অঞ্চল এবং পলিনেশীয় সংস্কৃতির নানা নিদর্শন।
রারোটোঙ্গার বাইরে রয়েছে আরও ১৪টি দ্বীপ। এর মধ্যে মধুচন্দ্রিমাপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় আইতুতাকি অন্যতম। এসব দ্বীপে তুলনামূলক কম পর্যটক থাকায় স্থানীয় জীবন ও প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগও বেশি।
কুক দ্বীপপুঞ্জে এখন জনপ্রিয় হচ্ছে ‘বিয়ারফুট লাক্সারি’ ধরনের থাকার ব্যবস্থা। অর্থাৎ বিলাসবহুল থাকার সুযোগ থাকলেও এর সঙ্গে প্রকৃতি ও স্থানীয় পরিবেশের সামঞ্জস্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে ২০২৬ সালে দ্বীপগুলোর সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্ব বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা মারায়ে মোয়ানার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সুরক্ষা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
আইতুতাকির স্বচ্ছ ত্রিভুজাকার লেগুনের তিনটি ছোট দ্বীপ বা মোটুকেও বিশেষ সংরক্ষিত মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। গভীর সমুদ্রে খনিজ অনুসন্ধানের গবেষণাও অন্তত ২০৩২ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে কুক দ্বীপপুঞ্জ সরকার।
স্থলভাগেও সংরক্ষণের উদ্যোগ রয়েছে। রারোটোঙ্গার পবিত্র মাউঙ্গারোয়া উপত্যকা বর্তমানে ইউনেসকোর টেন্টেটিভ লিস্টে রয়েছে। নদী ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনে ঘেরা এই উপত্যকা এখনো বড় ধরনের উন্নয়ন বা নির্মাণের বাইরে রয়েছে।
কুক দ্বীপপুঞ্জের পর্যটন আকর্ষণের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে উন্নত বিমান যোগাযোগও। ২০২৫ সালের জুনে হাওয়াইয়ান এয়ারলাইনস হনুলুলু–রারোটোঙ্গা রুটে দিনের বেলার আরও সুবিধাজনক ফ্লাইট চালু করেছে। আলাস্কা এয়ারলাইনসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর থেকেও নতুন সংযোগ তৈরি হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া থেকেও ভ্রমণ সহজ হতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের মে থেকে জেটস্টার ব্রিসবেন–রারোটোঙ্গা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছে।
প্রকৃতি, সমুদ্র, পলিনেশীয় সংস্কৃতি এবং তুলনামূলক কম পর্যটকের ভিড়ের কারণে কুক দ্বীপপুঞ্জ ২০২৬ সালে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের এমন এক গন্তব্য হয়ে উঠছে, যেখানে বিলাসবহুল অবকাশের পাশাপাশি পরিবেশ ও স্থানীয় সংস্কৃতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।









