পরিচিত জয়পুরের আড়ালে লুকিয়ে আছে যে অচেনা সৌন্দর্য

ফিচার ডেস্ক
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৪৬আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৪৬

রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর মানেই রাজকীয় দুর্গ, প্রাসাদ আর ঐতিহাসিক স্থাপত্য। হাওয়া মহল, আমের দুর্গ কিংবা সিটি প্যালেস বছরজুড়েই এসব দর্শনীয় স্থান দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে গোলাপি শহর জয়পুরের সৌন্দর্য শুধু এসব পরিচিত স্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

মাটির হাঁড়িতে ঐতিহ্যবাহী নকশা আঁকায় ব্যস্ত স্থানীয় একজন নারী (ছবি: পিক্সেল)

ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে শহর ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে গ্রামীণ জীবন, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, স্থানীয় কারুশিল্প, বন্যপ্রাণী, প্রকৃতি ও বৈচিত্র্যময় খাবারের অভিজ্ঞতা। তাই জয়পুর ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে পরিচিত দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি শহরের এই অচেনা দিকগুলোও ভ্রমণতালিকায় রাখা যেতে পারে।

ঘুরে দেখুন জয়পুরের আশপাশের গ্রাম (ছবি: পিক্সেল)

১. রাজস্থানের সংস্কৃতি জানতে গ্রামে ঘুরুন

জয়পুরের আশপাশের গ্রামগুলো ঘুরে দেখলে রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপনের সঙ্গে কাছ থেকে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মেলে। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের রীতিনীতি, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে জানা যায়। একই সঙ্গে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী কর্মকাণ্ডও দেখার সুযোগ রয়েছে।

অনেক গ্রামেই রাজস্থানের লোকসংগীত ও লোকনৃত্যের আয়োজন করা হয়। এসব পরিবেশনা উপভোগের মাধ্যমে পর্যটকেরা রাজস্থানের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা পেতে পারেন।

উপবোগ করুন আশপাশের বিভিন্ন বন্যপ্রাণী, পাখি এবং মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য (ছবি: পিক্সেল)

২. ক্যামেরায় বন্দী করুন বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি

জয়পুরে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর ছবি তোলার জন্য বেশ কিছু আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে। নাহারগড় বায়োলজিক্যাল পার্ক ও ঝালানা লেপার্ড রিজার্ভের আশপাশে প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকা বিভিন্ন বন্যপ্রাণী, পাখি এবং মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করা যায়।

পেশাদার আলোকচিত্রী কিংবা শখের ফটোগ্রাফার দুই ধরনের ভ্রমণকারীর কাছেই এসব স্থান আকর্ষণীয় হতে পারে। সবুজ প্রকৃতি, বৈচিত্র্যময় পাখি ও বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য ভ্রমণের স্মৃতিকে করে তুলতে পারে আরও সমৃদ্ধ।

এখানে দেখা মিলবে পাহাড় ও ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপর সূর্যোদয়ের দৃশ্য (ছবি: পিক্সেল)

৩. উপভোগ করুন মনোমুগ্ধকর সূর্যোদয়

জয়পুর ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে শহরের পাহাড় ও ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপর সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখা। ভোরের সূর্যোদয় উপভোগের জন্য নাহারগড় দুর্গ অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান।

সূর্যের আলো ধীরে ধীরে চারপাশ আলোকিত করে শহরকে যখন সোনালি আভায় রাঙিয়ে তোলে, তখন প্রকৃতি ও ইতিহাসের অপূর্ব মেলবন্ধন চোখে পড়ে। সকালের তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে পর্যটকদের ভিড়ও কম থাকে। ফলে শহরের কোলাহল থেকে দূরে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটানোর পাশাপাশি জয়পুরের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

জিপ সাফারি হতে পারে আনন্দ ও রোমাঞ্চে ভরা অভিজ্ঞতা (ছবি: পিক্সেল)

৪. উপভোগ করুন রোমাঞ্চকর জিপ সাফারি

জয়পুরের দুর্গম প্রাকৃতিক এলাকা ও আশপাশের গ্রামাঞ্চল ঘুরে দেখার রোমাঞ্চকর উপায় হতে পারে জিপ সাফারি। মনোরম পথ ধরে গ্রামের ভেতর দিয়ে এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের মধ্য দিয়ে চলার সময় রাজস্থানের প্রকৃতি ও স্থানীয় জীবনযাপনকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।

অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমী দুই ধরনের ভ্রমণকারীর জন্যই জিপ সাফারি হতে পারে আনন্দ ও রোমাঞ্চে ভরা অভিজ্ঞতা।

জয়পুরের স্থানীয় খাবার (ছবি: পিক্সেল)

৫. চেখে দেখুন ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় খাবার

জয়পুর ভ্রমণে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়া যেন আলাদা এক অভিজ্ঞতা। রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী রান্নার বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে ডাল-বাটি-চুরমা, লাল মাস, পেঁয়াজ কচুরি ও ঘেওয়ারের মতো জনপ্রিয় খাবারে। এসব খাবারের স্বাদ ও প্রস্তুতপ্রণালিতে রাজস্থানের দীর্ঘদিনের খাদ্যসংস্কৃতির ছাপ পাওয়া যায়।

স্থানীয় খাবারের দোকান ও ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁয় গিয়ে এসব খাবার চেখে দেখা খাদ্যপ্রেমী ভ্রমণকারীদের জন্য হতে পারে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার মাধ্যমে একটি অঞ্চলের সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হওয়া যায়।

জয়পুরের স্থানীয় বাজার (ছবি: পিক্সেল)

৬. ঘুরে দেখুন রঙিন স্থানীয় বাজার

জয়পুরের রঙিন ও প্রাণবন্ত বাজারগুলো কেনাকাটাপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। জোহরি বাজার, বাপু বাজার ও ত্রিপোলিয়া বাজারের মতো জনপ্রিয় বাজারগুলো ঐতিহ্যবাহী গয়না, কাপড়, হস্তশিল্প এবং রাজস্থানের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত নানা স্মারকের জন্য পরিচিত।

এসব বাজার ঘুরে দেখার সময় স্থানীয় কারুশিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য কেনার পাশাপাশি তাদের কাজকে সমর্থন করার সুযোগও থাকে। পছন্দের কিছু ঐতিহ্যবাহী জিনিস সঙ্গে নিয়ে ফিরলে জয়পুর ভ্রমণের স্মৃতিও হয়ে উঠতে পারে আরও বিশেষ।

দুর্গ ও প্রাসাদের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেও জয়পুরের আকর্ষণ সেখানেই শেষ নয়। সংস্কৃতি, প্রকৃতি, রোমাঞ্চ, খাবার, কেনাকাটা ও স্থানীয় জীবনযাপনের বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা এই শহরকে করে তুলেছে আরও সমৃদ্ধ। তাই পরবর্তী জয়পুর ভ্রমণে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি শহরের এই অচেনা দিকগুলোও ঘুরে দেখলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে আরও বৈচিত্র্যময় ও স্মরণীয়।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
শি জিনপিংয়ের সফরে চীন-ভারত সম্পর্কে বরফ গলবে?
বাড়িতে শ্বশুরের শরীরে ২৬টি ছুরিকাঘাত, বারে পার্টি করতে করতেই খুনের নির্দেশনা দেন পুত্রবধূ
রকেট ডিজাইন ছেড়ে বেবি ফুডের ব্যবসা, বছরে কোটি রুপি আয় তরুণীর
সর্বশেষ খবর
স্কুলজীবনে শাহরুখের হয়ে গান গাইতেন পলাশ, জানালেন গায়ক নিজেই
স্কুলজীবনে শাহরুখের হয়ে গান গাইতেন পলাশ, জানালেন গায়ক নিজেই
র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের পক্ষে যেসব যুক্তি দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের পক্ষে যেসব যুক্তি দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গ্রাহকের শত কোটি টাকা নিয়ে উধাও, জেল থেকে পালানোর দুই বছর পর ধরলো পুলিশ
গ্রাহকের শত কোটি টাকা নিয়ে উধাও, জেল থেকে পালানোর দুই বছর পর ধরলো পুলিশ
দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মুক্তবুদ্ধির চর্চা- মত প্রকাশের আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের
দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মুক্তবুদ্ধির চর্চা- মত প্রকাশের আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের
সর্বাধিক পঠিত
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
রয়টার্স এক্সক্লুসিভডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
কোথায় গেলো হাওরের মাছগুলো?
কোথায় গেলো হাওরের মাছগুলো?
সন্তানকে ঘিরে যখন পরিবারে আনন্দ, ঠিক তখনই এলো বাবার মৃত্যুর খবর
সন্তানকে ঘিরে যখন পরিবারে আনন্দ, ঠিক তখনই এলো বাবার মৃত্যুর খবর
এখন সুযোগ পেলে কাকে নায়িকা হিসেবে চান আলমগীর, জানালেন নিজেই
এখন সুযোগ পেলে কাকে নায়িকা হিসেবে চান আলমগীর, জানালেন নিজেই
মান্না-পূর্ণিমা জুটির প্রথম ও শেষ সিনেমা কোনটি
মান্না-পূর্ণিমা জুটির প্রথম ও শেষ সিনেমা কোনটি