মাওয়ার পথে পদ্মার সৌন্দর্যে হারিয়ে যাওয়ার গল্প

ফিচার ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০

ঢাকার ব্যস্ততা থেকে অল্প সময়ের জন্য বেরিয়ে নদী, সেতু আর খোলা আকাশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে পদ্মা সেতু ও মাওয়া প্রান্ত হতে পারে সহজ এবং আকর্ষনীয় স্থান। বিশেষ করে একদিনের ট্যুরে যারা দূরে যেতে চান না, তাদের জন্য এই অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।

পদ্মা নদী

দেশের দীর্ঘতম সেতু পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এর মাওয়া প্রান্তকে ঘিরে মানুষের আগ্রহও বেড়েছে। বিশাল পদ্মা নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সেতুর অবকাঠামো এবং নদীর বিস্তৃত জলরাশি একসঙ্গে দেখার সুযোগ এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ। তবে সেতুতে ব্যক্তিগতভাবে থেমে দর্শন বা ছবি তোলার সুযোগ নেই। তাই নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলেই সেতু পার হতে হবে।

মাওয়া প্রান্তে পৌঁছানোর পর পদ্মার তীরের পরিবেশ ভ্রমণকারীদের আলাদা অভিজ্ঞতা দিতে পারে। নদীর বিশাল জলরাশি, নৌযান চলাচল এবং দূরে সেতুর কাঠামো সব মিলিয়ে বিকালের সময় এখানকার দৃশ্য বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি মাওয়ায় ইলিশ খাওয়া (ছবি: সংগৃহীত)

এই এলাকার আরেকটি আকর্ষণ স্থানীয় খাবার। বিশেষ করে পদ্মার ইলিশকে ঘিরে মাওয়া এলাকায় বহু খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। তবে ইলিশ খেতে গেলেই সেটি পদ্মার ইলিশ কি না, দাম কত এবং খাবারের বিল কীভাবে নেওয়া হচ্ছে এসব আগে জেনে নেওয়া ভালো।

মাওয়া ঘাট ও আশপাশের এলাকায় স্থানীয় জীবনযাত্রার একটি চিত্রও দেখা যায়। নদীকে কেন্দ্র করে মানুষের চলাচল, নৌযান এবং ব্যবসা এই এলাকার অর্থনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাই শুধু ছবি তুলে ফিরে না এসে স্থানীয় পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রাকেও ভ্রমণের অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

পদ্মা সেতু (ছবি: সংগৃহীত)

পদ্মা সেতু ও মাওয়া প্রান্তে যাওয়ার ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও দিনের সময় গুরুত্বপূর্ণ। পরিষ্কার আকাশ থাকলে নদী ও সেতুর দৃশ্য ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। বিকালের দিকে গেলে নদীর পাড়ে সময় কাটানোর পাশাপাশি সূর্যাস্তের দৃশ্যও দেখা যেতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনও স্থানে সূর্যাস্ত দেখা যাবে এমন নিশ্চয়তা ধরে না গিয়ে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী জায়গা বেছে নেওয়া ভালো।

পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে একদিনের ভ্রমণে গেলে যাতায়াতের সময়, খাবারের খরচ ও ফেরার সময় আগে থেকেই হিসাব করে নেওয়া সুবিধাজনক। ছুটির দিনে মানুষের চাপ বেশি হতে পারে, তাই অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে সম্ভব হলে কর্মদিবসে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

ভাঙ্গা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে

পদ্মা সেতু শুধু দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনেনি, এর আশপাশের এলাকাকেও ভ্রমণকারীদের কাছে নতুনভাবে পরিচিত করেছে। বিশাল নদী, আধুনিক সেতু, স্থানীয় খাবার ও নদীকেন্দ্রিক জীবন দেখতে চাইলে ঢাকার কাছাকাছি একদিনের ভ্রমণের তালিকায় মাওয়া প্রান্তকে রাখা যেতে পারে।

তবে এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ উপভোগ করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা। সেতুতে থামার সুযোগ নেই এমন বিষয় থেকে শুরু করে খাবারের দাম, নদীর তীরের নিরাপত্তা ও ফেরার সময় আগে থেকে এসব জানা থাকলে পদ্মা সেতু ও মাওয়া ভ্রমণ হতে পারে আরও স্বস্তিদায়ক ও উপভোগ্য।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
দু’দিনের সফরে কলকাতার ৫ জায়গায় থেকে ঘুরে আসুন
একদিনের ট্যুরে যাওয়ার আগে যে হিসাবগুলো জরুরি
গুজরাটে কাচের স্কাইওয়াক ও কৃত্রিম বৃষ্টির রেইনফরেস্ট
সর্বশেষ খবর
গার্মেন্টস শিল্প কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে: জামায়াত আমির
গার্মেন্টস শিল্প কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে: জামায়াত আমির
যুব এশিয়া কাপ জয়ের প্রত্যাশা, তবে ২০২৮ বিশ্বকাপই মূল লক্ষ্য
যুব এশিয়া কাপ জয়ের প্রত্যাশা, তবে ২০২৮ বিশ্বকাপই মূল লক্ষ্য
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর যৌথ মহড়া শুরু
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর যৌথ মহড়া শুরু
আবাসিকে থাকা মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ, পরিচালক গ্রেফতার
আবাসিকে থাকা মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ, পরিচালক গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
রণক্ষেত্র মিরপুর-১০
রণক্ষেত্র মিরপুর-১০
৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন শেফালী
৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন শেফালী
ঢাকার এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ‘জিপিএ-৫’ কুমিল্লা বোর্ডের সমান
ঢাকার এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ‘জিপিএ-৫’ কুমিল্লা বোর্ডের সমান
সঙ্গী খুঁজতে অবিবাহিতদের বিনামূল্যে ফিনল্যান্ড ভ্রমণের সুযোগ
সঙ্গী খুঁজতে অবিবাহিতদের বিনামূল্যে ফিনল্যান্ড ভ্রমণের সুযোগ
এইচএসসি পাস করলো জেলা ছাত্রদল সভাপতির ছেলে, সমালোচনার মুখে কমিটি বিলুপ্ত
এইচএসসি পাস করলো জেলা ছাত্রদল সভাপতির ছেলে, সমালোচনার মুখে কমিটি বিলুপ্ত