ঘন সবুজ বন, সরু আঁকাবাঁকা পথ, গাছের ফাঁক দিয়ে আসা রোদের ঝিলিক আর চারপাশে পাখির ডাক প্রকৃতির এমন আবহে হারিয়ে যেতে চাইলে হবিগঞ্জের সাতছড়ি হতে পারে দারুণ এক স্থান। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে এই বনাঞ্চল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য তৈরি করে এক শান্ত ও সবুজ ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। নামের সঙ্গে মিল রেখে এখানকার বনাঞ্চলে ছোট ছোট ছড়া ও জলধারার উপস্থিতি রয়েছে। ঘন গাছপালা আর পাহাড়ি পরিবেশের কারণে জায়গাটির প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য বেশ আলাদা।
বনের পথে হাঁটার অভিজ্ঞতা
সাতছড়ির অন্যতম আকর্ষণ এর হাঁটার পথ। বনের ভেতর নির্দিষ্ট পথে হাঁটতে হাঁটতে দেখা যায় নানা ধরনের গাছপালা। কোথাও ঘন ছায়া, কোথাও পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো প্রতিটি বাঁকেই বদলে যায় দৃশ্য।
প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্য বনের ভেতর হাঁটা হতে পারে ভ্রমণের সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ।
পাখির ডাকে মুখর বন
সাতছড়ি জীববৈচিত্র্যের জন্যও পরিচিত। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এই বনাঞ্চল। ভাগ্য ভালো হলে হাঁটার সময় গাছের ডালে দেখা মিলতে পারে নানা রঙের পাখির।
তবে বন্যপ্রাণী দেখার ক্ষেত্রে নীরবতা বজায় রাখা জরুরি। প্রাণীদের বিরক্ত না করে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করাই দায়িত্বশীল ভ্রমণের অংশ।
সবুজের মাঝে নিরিবিলি সময়
সাতছড়ির সৌন্দর্য অনেকটা তার নির্জনতায়। এখানে এসে চোখে পড়ে না বড় শহরের কোলাহল, বরং চারপাশে থাকে গাছের পাতার শব্দ, পাখির ডাক ও বনের নিজস্ব পরিবেশ। বিশেষ করে যারা প্রকৃতির মধ্যে কিছুটা সময় নিরিবিলিতে কাটাতে চান, তাদের কাছে সাতছড়ি হতে পারে স্বস্তির একটি জায়গা।
বর্ষায় বদলে যায় প্রকৃতির রূপ
বর্ষাকালে সাতছড়ির বন আরও সবুজ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির পর ভেজা পাতার গন্ধ, ছড়ায় পানির প্রবাহ এবং মেঘলা আকাশ বনের পরিবেশে যোগ করে অন্যরকম আবহ। তবে বর্ষায় বনের পথে হাঁটার সময় পিচ্ছিল রাস্তা, বৃষ্টি ও স্থানীয় নিরাপত্তা নির্দেশনার বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সড়কপথে হবিগঞ্জ হয়ে চুনারুঘাট এলাকায় পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের প্রবেশপথে যাওয়া যায়। ভ্রমণের আগে প্রবেশের সময়, স্থানীয় নিয়ম ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য জেনে নেওয়া ভালো।
প্রকৃতিকে ভালোবেসেই ভ্রমণ
সাতছড়ির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বন রক্ষার দায়িত্বও ভ্রমণকারীদের। বনে প্লাস্টিক বা খাবারের প্যাকেট ফেলা, গাছপালা নষ্ট করা কিংবা বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
সাতছড়ি শুধু একটি ভ্রমণকেন্দ্র নয়, এটি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। তাই সেখানে গিয়ে প্রকৃতিকে নিজের মতো থাকতে দেওয়াই হতে পারে ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর নিয়ম।
সবুজের ভেতর কয়েক ঘণ্টা হাঁটা, পাখির ডাক শোনা আর বনের নীরবতা অনুভব করা সাতছড়ির সৌন্দর্য আসলে এমনই সহজ। প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে চাইলে তাই একদিনের ভ্রমণেই আবিষ্কার করা যায় হবিগঞ্জের এই সবুজ জগতকে।









