ভারতের পাহাড়ি শহর উটি ভ্রমণে নীলগিরির বিখ্যাত খেলনা ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতা আলাদা। পাহাড়ের গা বেয়ে ধীরে চলা নীল রঙের এই ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখা যায় সবুজ পাহাড়, চা-বাগান আর কুয়াশায় মোড়া মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য। তবে এই যাত্রাকে আরও উপভোগ্য করতে টিকিট বুকিংয়ের সময় ও আসন বাছাইয়ে একটু কৌশলী হওয়া দরকার।
সেরা দৃশ্যের জন্য আগে টিকিট কাটুন
কনটেন্ট নির্মাতা আর্যুমান গাঙ্গুলির পরামর্শ, নিশ্চিত আসন পেতে ভ্রমণের অন্তত এক মাস আগে টিকিট কেটে রাখা ভালো। আর জানালার পাশে পছন্দের আসন চাইলে অন্তত দুই মাস আগে বুকিং করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
উটি থেকে কুনুর যাওয়ার সময় ট্রেনের ডান পাশের জানালার আসন থেকে তুলনামূলক ভালো দৃশ্য দেখা যায়। অন্যদিকে কুনুর থেকে উটি ফেরার সময় বাঁ পাশের জানালার আসন বেছে নেওয়া ভালো।
অনলাইনে টিকিট কাটাই সুবিধাজনক
স্টেশন থেকেও খেলনা ট্রেনের টিকিট কেনা যায়। তবে সেখানে আসন সীমিত থাকতে পারে। তাই আগে থেকেই আসন নিশ্চিত করতে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম করপোরেশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিট কাটাই সুবিধাজনক।
প্রথম শ্রেণিতে বড় জানালা
দ্বিতীয় শ্রেণির টিকিটের দাম ১৫০ রুপি। প্রথম শ্রেণির জন্য জনপ্রতি গুনতে হয় ৩৫০ রুপি। প্রথম শ্রেণির কামরায় বড় জানালা থাকায় পাহাড়ি দৃশ্য দেখার সুযোগও বেশি। তবে এই কামরা মাত্র একটি এবং এতে আসন থাকে প্রায় ৮ থেকে ১৬টি।
পথে মিলবে পাহাড়-চা-বাগানের দৃশ্য
নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ের পুরো ৪৬ কিলোমিটার পথ উটি থেকে মেট্টুপালায়ম পর্যন্ত বিস্তৃত। পুরো যাত্রায় সময় লাগে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা। পথে ট্রেনটি অতিক্রম করে ২০৮টি বাঁক, ২৫০টি সেতু ও ১৬টি সুড়ঙ্গ। পাহাড়, চা-বাগান ও কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতির কারণে পুরো যাত্রাপথই হয়ে ওঠে দর্শনীয়। ২০০৫ সালে এই রেলপথ ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পেয়েছে।
একদিনেই কুনুর ঘুরে ফেরা
অনেক পর্যটক সকালে খেলনা ট্রেনে চড়ে কুনুর যান। সেখানে সিমস পার্ক ও ডলফিনস নোজের মতো দর্শনীয় স্থান ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যে উটিতে ফিরে আসেন। ফলে এক দিনের পরিকল্পনাতেই খেলনা ট্রেনের রোমাঞ্চের পাশাপাশি নীলগিরির পাহাড়ি সৌন্দর্যও উপভোগ করা সম্ভব।