ইংল্যান্ড ভ্রমণে বিদেশি পর্যটকদের জন্য সুখবর। দেশটির জাতীয় জাদুঘরগুলোতে বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছ থেকে কোনও প্রবেশমূল্য নেওয়া হবে না। সবার জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের বর্তমান নীতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে প্রবেশমূল্য আদায় করা হলে জাদুঘরগুলোর আয় বাড়বে কি না, তা নিয়ে কয়েক মাস ধরে সরকার, জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ও পর্যটন খাতের মধ্যে আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা প্রবেশমূল্য চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেনি সরকার।
ইংল্যান্ডের ১৫টি জাতীয় জাদুঘরের স্থায়ী সংগ্রহ দেখতে ২০০১ সাল থেকে দর্শনার্থীদের কোনও প্রবেশমূল্য দিতে হয় না। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো পর্যটক এসব জাদুঘর ঘুরে দেখেন। সরকারের হিসাবে, জাতীয় জাদুঘরগুলো প্রতিবছর দেশটির অর্থনীতিতে ১০০ কোটি পাউন্ডের বেশি অবদান রাখে।
প্রবেশমূল্য চালুর পক্ষে যুক্তি ছিল, বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় পরিচালিত জাদুঘরগুলোর আয় বাড়তে পারে। এ বিষয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনাতেও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশের তুলনা করা হয়েছিল। ওই দেশগুলোতে বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশমূল্য নেওয়া হলেও নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে ইংল্যান্ড সরকার শেষ পর্যন্ত মনে করেছে, বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলে দেশের অভ্যন্তরীণ দর্শনার্থীরাও জাদুঘরে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। একই সঙ্গে প্রবেশমূল্য চালুর সুফল ও প্রভাব জাদুঘর খাতের সব প্রতিষ্ঠানের ওপর সমানভাবে পড়বে না। তাই বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্যও বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে।
জাদুঘরগুলোর জনপ্রিয়তার চিত্রও বেশ উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরে প্রায় ৭১ লাখ এবং ব্রিটিশ জাদুঘরে প্রায় ৬৪ লাখ দর্শনার্থী গিয়েছেন। বর্তমানে ব্রিটিশ জাদুঘরে ঐতিহাসিক বেয়ো ট্যাপেস্ট্রি প্রদর্শিত হচ্ছে, যা দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ।
প্রবেশমূল্য না থাকলেও জাদুঘরগুলো নিজেদের আয় বাড়ানোর জন্য বিশেষ প্রদর্শনী, বিভিন্ন আয়োজন, সদস্যপদ এবং উপহারের দোকানের ওপর নির্ভর করে। ফলে বিনামূল্যে প্রবেশের নীতি বজায় রেখেও প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করছে।
লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও বিদেশি পর্যটকদের ওপর প্রবেশমূল্য আরোপের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, লন্ডনের জাদুঘর ও শিল্পকেন্দ্রগুলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে আকর্ষণ করে এবং সংস্কৃতিতে প্রবেশাধিকার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত।
সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডিও ঘোষণা করেছেন, বিদেশি দর্শনার্থীদের জাদুঘর দেখতে কোনও প্রবেশমূল্য দিতে হবে না। ব্রিটিশ জাদুঘরের পরিচালক নিকোলাস কুলিনান বলেন, ১৭৫৩ সালে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠার সময়ই এর লক্ষ্য ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা।
ফলে ইংল্যান্ড ভ্রমণ করতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য জাতীয় জাদুঘরগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ থাকছে আগের মতোই বিনামূল্যে। ইতিহাস, শিল্প ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধ সংগ্রহ দেখার পাশাপাশি এতে ভ্রমণকারীদের ভ্রমণ ব্যয়ও কিছুটা কমবে।