দিল্লির বাতাসে দূষণের মাত্রা বাড়লেই স্বস্তির খোঁজে শহর ছাড়তে চান অনেকে। বিশেষ করে শীতের শুরুতে ধোঁয়াশার চাদরে ঢেকে যায় ভারতের রাজধানী। বায়ুর গুণমান যখন খারাপের দিকে, তখন কয়েক দিনের জন্য এমন কোনও জায়গায় ঘুরে আসতে পারেন, যেখানে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। দিল্লি থেকে সড়কপথে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বেই রয়েছে পাহাড়, বনভূমি ও নিরিবিলি পরিবেশের কয়েকটি গন্তব্য। উত্তরাখণ্ডের ল্যান্সডাউন ও নৈনিতাল কিংবা হিমাচল প্রদেশের মানালির মতো জায়গায় মিলতে পারে শহরের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি।
ল্যান্সডাউন, উত্তরাখণ্ড
দিল্লি থেকে সড়কপথে ল্যান্সডাউনে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা। পাইনগাছে ঘেরা এই পাহাড়ি শহর একসময় ব্রিটিশ সেনানিবাস ছিল। প্রকৃতিপ্রেমী ও হাঁটতে ভালোবাসেন যাঁরা, তাঁদের জন্য জায়গাটি বেশ উপযোগী। আশপাশে রয়েছে একাধিক ট্রেকিংয়ের পথ। চাইলে ভুল্লা তাল হ্রদে নৌকাবিহার করতে পারেন। আর টিপ-এন-টপ ভিউপয়েন্ট থেকে দেখা যায় পাহাড় ও উপত্যকার মনোরম দৃশ্য।
নৈনিতাল, উত্তরাখণ্ড
নভেম্বর নৈনিতাল ভ্রমণের ভালো সময়। শীতল আবহাওয়ায় পাহাড়ি পথে হাঁটা, ট্রেকিং কিংবা নৈনি লেকে নৌকাবিহার—সবই উপভোগ করতে পারেন। শহরের ব্যস্ত মল রোডে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি স্নো ভিউ পয়েন্ট থেকে দেখা যায় নৈনিতাল ও আশপাশের পাহাড়ের বিস্তৃত দৃশ্য। আরও নিরিবিলি পরিবেশ চাইলে ঘুরে আসতে পারেন কাছের কিলবুরি বনাঞ্চল থেকে।
মানালি, হিমাচল প্রদেশ
কয়েক দিনের ছুটি কাটাতে মানালি হতে পারে ভালো গন্তব্য। বরফঢাকা পাহাড়, আপেলবাগান আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। চাইলে আশপাশের আপেলবাগান ঘুরে দেখতে পারেন। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য রয়েছে সোলাং ভ্যালিতে প্যারাগ্লাইডিংয়ের সুযোগ। এক দিনের ভ্রমণে যেতে পারেন নাগর ক্যাসলেও। ঐতিহ্যবাহী এই দুর্গ-হোটেল থেকে উপত্যকার অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়।
ভ্রমণের আগে মনে রাখুন: কোনও জায়গায় দূষণ কম থাকবে, তা সব সময় নিশ্চিত নয়। বায়ুর মান আবহাওয়া ও মৌসুমের সঙ্গে বদলায়। তাই যাত্রার আগে গন্তব্যের হালনাগাদ AQI বা বায়ুমান সূচক দেখে নিন। দিল্লি থেকে সড়কপথে দূরত্ব ও যাত্রার সময়ও যানজট এবং আবহাওয়ার কারণে পরিবর্তিত হতে পারে।