জুটল্যান্ডে হ্রদের ধারে ১৩০ বছরের পুরোনো ওয়াটারফ্রন্ট হোটেল

ফিচার ডেস্ক
২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:১০ আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:১০

ডেনমার্কে এমন একটি ঠিকানা রয়েছে, যেখানে ইতিহাস, বন আর হ্রদের সৌন্দর্য একসঙ্গে মিশে গেছে। জুটল্যান্ড উপদ্বীপের লেক ডিস্ট্রিক্টে ব্রাসো হ্রদের তীরে গড়ে ওঠা নাই হ্যাটেনেস হোটেলটি প্রায় ১৩০ বছর ধরে এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ। ১৮৯৬ সালে গ্রীষ্মকালীন বোর্ডিং হাউস হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই ঐতিহাসিক স্থাপনা এখন সারা বছরই পর্যটকদের থাকার সুযোগ দিচ্ছে।

সিল্কেবর্গ শহরের দক্ষিণে বনঘেরা এলাকায় অবস্থিত হোটেলটি এমন এক পরিবেশে, যেখানে প্রকৃতির কাছে থাকার পাশাপাশি হ্রদের পানিতে নানা ধরনের জলক্রীড়ার সুযোগও রয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মে দীর্ঘ দিন আর মৃদু আলোয় এখানকার পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়।

বন আর হ্রদের মাঝে গ্রীষ্মের ছুটি

সিল্কেবর্গকে ডেনমার্কের ‘আউটডোর রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত করা হয়। শহরের আশপাশে রয়েছে অসংখ্য বন, হ্রদ ও প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণস্থল। এই পরিবেশের মধ্যেই ব্রাসো হ্রদের তীরে দাঁড়িয়ে আছে নাই হ্যাটেনেস।

গ্রীষ্মকালে হ্রদের পানিতে দেখা যায় পর্যটকদের ব্যস্ততা। কেউ সাঁতার কাটেন, কেউ প্যাডেলবোর্ড বা ক্যানো নিয়ে পানিতে বেরিয়ে পড়েন। আর যারা একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তারা হোটেলের টেরেসে বসে উপভোগ করতে পারেন হ্রদের শান্ত জল আর দীর্ঘ গোধূলির আলো।

দিন শেষে পানির ওপর সূর্যের শেষ আলো আর চারপাশের বন মিলিয়ে তৈরি হয় এক শান্ত পরিবেশ—যা শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে কয়েক দিনের বিরতি নেওয়ার জন্য বেশ উপযোগী।

ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক ড্যানিশ নকশা

প্রায় ১৩০ বছরের পুরোনো হলেও নাই হ্যাটেনেস এখন আর পুরোনো ধাঁচের থাকার জায়গা নয়। ২০২২ সালে হোটেলটি নতুন করে সাজানো হয়েছে, যেখানে ঐতিহাসিক আবহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক ড্যানিশ ডিজাইন।

ডেনিশ ডিজাইন প্রতিষ্ঠান সোসাইটি অব লাইফস্টাইল-এর সঙ্গে যুক্ত তিন ভাই-বোনের উদ্যোগে হোটেলটির ১৪টি কক্ষকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। ঘরগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে হাউস ডক্টর-এর আসবাব। বাথরুমে অতিথিদের জন্য রাখা হয়েছে মেরাকি ব্র্যান্ডের প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি প্রসাধনী।

পুরোনো স্থাপনার চরিত্র ধরে রেখে আধুনিক আরাম যোগ করার এই নকশা হোটেলটিকে দিয়েছে আলাদা আবেদন। ফলে এখানে থাকার অভিজ্ঞতায় ইতিহাসের পাশাপাশি পাওয়া যায় সমকালীন ড্যানিশ নান্দনিকতার ছোঁয়াও।

হ্রদের দৃশ্য ৭ নম্বর কক্ষের বারান্দা থেকেই

হোটেলের ১৪টি কক্ষের মধ্যে ৭ নম্বর কক্ষটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এর বড় বারান্দা থেকে সরাসরি দেখা যায় ব্রাসো হ্রদ। সকালে ঘুম থেকে উঠে হ্রদের জলরাশি দেখা কিংবা সন্ধ্যায় বারান্দায় বসে গোধূলি উপভোগ—দুই অভিজ্ঞতাই পাওয়া যায় ঘর থেকেই।

প্রকৃতি ও নিরিবিলি পরিবেশকে যারা ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ মনে করেন, তাদের জন্য এই কক্ষটি হতে পারে বিশেষ পছন্দের।

ইতিহাস, প্রকৃতি ও জলভ্রমণের এক ঠিকানা

১৮৯৬ সালে গ্রীষ্মকালীন বোর্ডিং হাউস হিসেবে যাত্রা শুরু করা নাই হ্যাটেনেস সময়ের সঙ্গে বদলেছে, কিন্তু এর সবচেয়ে বড় সম্পদ—ব্রাসো হ্রদের তীর ও চারপাশের বন—আজও একই রকম রয়েছে।

হ্রদে ক্যানো চালানো থেকে শুরু করে সাঁতার, প্যাডেলবোর্ডিং কিংবা শুধু টেরেসে বসে গোধূলি দেখা—সব মিলিয়ে এটি এমন এক ভ্রমণ ঠিকানা, যেখানে খুব বেশি ব্যস্ত সূচির প্রয়োজন নেই। বরং ধীরগতিতে প্রকৃতিকে উপভোগ করাই এখানে ছুটির মূল আকর্ষণ।

থাকার খরচ: প্রাতরাশসহ দুজনের জন্য প্রতি রাত প্রায় ২০৫ পাউন্ড থেকে।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

/এমএএল/
সম্পর্কিত
গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করবে যুক্তরাষ্ট্র
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের চুক্তি, সতর্ক আশাবাদ ডেনমার্কের
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন রাজত্ব: ডেনমার্কের সঙ্গে 'অনন্ত' চুক্তি ট্রাম্পের
সর্বশেষ খবর
যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে ৯ দেশে আঘাতের হুমকি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে ৯ দেশে আঘাতের হুমকি ইরানের
গর্ব করে বলতে পারি, আমার দলের কোনও কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়: আইনমন্ত্রী
গর্ব করে বলতে পারি, আমার দলের কোনও কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়: আইনমন্ত্রী
দিল্লিতে রাবণ বধ করবেন ইয়ামি, বার্তা দেবেন নারীশক্তির
দিল্লিতে রাবণ বধ করবেন ইয়ামি, বার্তা দেবেন নারীশক্তির
জলরাশির গর্জনময় সৌন্দর্যে মুগ্ধতার অনন্য জগৎ ইগুয়াজু জলপ্রপাত
জলরাশির গর্জনময় সৌন্দর্যে মুগ্ধতার অনন্য জগৎ ইগুয়াজু জলপ্রপাত
সর্বাধিক পঠিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন