ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন কিনছে সরকার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৮ আগস্ট ২০১৮, ২১:০৫আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ২২:০৮

রোজ গার্ডেন প্যালেস (ছবি: সংগৃহীত) রাজধানীর পুরান ঢাকার হৃষিকেশ রোডে ব্যক্তি মালিকানাধীন ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন ১৯৮৯ সালে সংরক্ষিত ভবন ঘোষণা করে বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। বর্তমানে এটি পুরাকীর্তি হিসেবে রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয়েছিল ওই বাড়িতেই।

নতুন খবর হলো, ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ ২ হাজার ৯০০ টাকা ব্যয়ে রোজ গার্ডেন কিনছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বুধবার (৮ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভকক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন অনুযায়ী ‘সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে’ বর্তমান মালিকদের কাছ থেকে সরকার রোজ গার্ডেন কিনবে।

মুসলিম লীগের প্রগতিশীল একটি অংশের উদ্যোগে বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ১৯৫৫ সালে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে এ দলের নতুন নাম হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’।

১৯৩১ সালে প্রায় ২২ বিঘা জমির ওপর বাগানবাড়িটি নির্মাণ করেন ব্যবসায়ী হৃষিকেশ দাস। পশ্চিমমুখী ওই দোতলা বাড়ির চারপাশ বিভিন্ন দেশ থেকে আনা দুর্লভ প্রজাতির গোলাপের বাগানে সাজিয়ে তোলেন তিনি। সেই থেকে এর নাম হয় ‘রোজ গার্ডেন’।

বেহিসাবি জীবনযাপনের কারণে একপর্যায়ে দেউলিয়া হয়ে যান রোজ গার্ডেনের মালিক হৃষিকেশ দাস। ১৯৩৬ সালে ব্যবসায়ী খান বাহাদুর মৌলভী কাজী আবদুর রশীদের কাছে এর সম্পত্তি বিক্রি করে দেন তিনি। কাজী আবদুর রশীদ সেখানে গড়ে তোলেন প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরি।

মৌলভী কাজী আবদুর রশীদের কাছ থেকে ১৯৬৬ সালে রোজ গার্ডেনের মালিকানা পান তার বড় ভাই কাজী হুমায়ুন বশীর। এর সুবাদে ভবনটি ‘হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি’ নামে পরিচিতি পায়। ১৯৭০ সালে রোজ গার্ডেন প্যালেসের ইজারা নেয় বেঙ্গল স্টুডিও ও মোশন পিকচার্স লিমিটেড।

১৯৯৩ সালে রোজ গার্ডেনের অধিকার ফিরে পান কাজী আবদুর রশিদের মেজ ছেলে কাজী আবদুর রকীব। ১৯৯৫ সালে কাজী রকিবের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী লায়লা রকীব রোজ গার্ডেনের সম্পত্তির মালিক হন। এর নিচতলায় রয়েছে একটি হলরুম, আটটি কক্ষ ও করিনথিয়ান কলাম। ওপর তলায় আরেকটি হলসহ আরও পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। প্রাসাদের সামনে বাগানে আছে মার্বেলের তৈরি কয়েকটি সুদৃশ্য মূর্তি। তবে যে গোলাপ বাগানের জন্য বাড়িটির নাম হয়েছিল রোজ গার্ডেন, তা বর্তমানে নিশ্চিহ্ন। 


যেভাবে যাবেন
ছুটির দিন ছাড়া সবদিনই রোজ গার্ডেনে যাওয়া যায়। তবে মূল ভবনে ঢোকার ক্ষেত্রে পূর্ব অনুমতির প্রয়োজন হয়। ঢাকার গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী দিয়ে রিকশায় চড়ে টিকাটুলির কেএম দাস লেনে অবস্থিত রোজ গার্ডেনে যেতে পারেন। তবে রিকশাচালকরা হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি বললেই চিনবে। বেড়ানোর ফাঁকে খেতে পারেন পুরান ঢাকার আল রাজ্জাক, হাজীর বিরিয়ানি, কাশ্মির কাচ্চি, বিউটি বোর্ডিং কিংবা সুলতানের চা। 

/এসআই/জেএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম