বছরে এক মাস দেখা যায় এই গ্রাম!

জার্নি ডেস্ক
২১ জুন ২০১৯, ১৮:০০আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ১৮:১৭

গোয়ায় সালাউলিম নদীর তীরে জলাধার ভারতের গোয়ায় দারুণ একটি জায়গা আছে। মজার বিষয় হলো, প্রতি বছর মাত্র এক মাসের জন্য এর দেখা মেলে। অনেকটা জাদুর মতো ব্যাপার! আদতে বাকি ১১ মাস এটি পানির নিচে ডুবে থাকে।

গ্রামটির নাম কুর্দি। এর মূল বাসিন্দারা এখন অন্যত্র স্থায়ীভাবে থাকেন। বছরের ১১ মাস পর পানি সরে গেলে এক মাসের জন্য পুরনো ঠিকানায় একত্র হয়ে আনন্দ-উৎসব করেন তারা। পাশাপাশি নিজেদের হারিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ঘুরে দেখে স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান।

শহুরে জীবনের কোলাহল থেকে দূরে গোয়ার পশ্চিম ঘাটে নয়নাভিরাম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই ছোট্ট সুন্দর পল্লী। গোয়ার বৃহত্তম নদী জুয়ারির শাখা নদী সালাউলিমের কলকল প্রবাহ সরে গেলে গ্রামটি জেগে ওঠে।

একসময় গোয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি ছিল সমৃদ্ধ গ্রাম। গত কয়েক দশক ধরে ১১ মাসের জন্য এটি জাদুর মতো মিলিয়ে যায়! প্রতি বছরের মে মাসে ফের এই গ্রাম দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, ১৯৮৬ সালে কুর্দির অস্তিত্ব প্রথমবার অদৃশ্য হয়। সেই সময় সালাউলিম নদীর তীরে একটি জলাধার তৈরি করা হয়। এ কারণে গ্রামটি পানিতে ডুবে যায়। এখন মে মাসে পানি নেমে গেলে এই জায়গা জাদুকরিভাবে দৃশ্যমান হয়। তখন মাইলের পর মাইল ফাটল ভূমি, গাছের গুঁড়ি আর ঘরবাড়ি, স্থাপত্য ও ধর্মীয় স্থাপনার ক্ষয়ে যাওয়া অবশিষ্টাংশ বিক্ষিপ্তভাবে দেখা যায়।

প্রতি বছরের মে মাসে এমন দৃশ্যমান হয়ে ওঠে কুর্দি গ্রাম প্রাথমিকভাবে কুর্দি গ্রামের জমি ছিল উর্বর। সেখানে বিভিন্ন ধর্মের তিন হাজার বাসিন্দা বসবাস করতো। তারা ধান চাষ করতেন। এছাড়া কাজুবাদাম, কাঁঠাল, নারকেল ও আম গাছে পরিপূর্ণ ছিল তাদের দৈনন্দিন জীবন। গ্রামে ছিল কয়েকটি মন্দির, একটি মসজিদ ও খ্রিষ্টানদের একটি প্রার্থনাগৃহ।

পর্তুগিজ শাসন থেকে ১৯৬১ সালে গোয়া স্বাধীন হওয়ার পর দৃশ্যপট বদলাতে থাকে। রাজ্যটির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী দয়ানন্দ বন্দোড়কার কুর্দি গ্রাম পরিদর্শন করে জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান। এতে গোয়ার দক্ষিণাঞ্চল পুরোটাই উপকৃত হয়েছে। এ কারণে স্থানীয় ৬০০ পরিবার নিকটবর্তী ভাদেমি ও ভালকিনিম গ্রামে স্থানান্তরিত হয়। তারা জমি আর ক্ষতিপূরণ পেলেও ১৫ কিলোমিটার দূরে স্থানান্তর হওয়া গ্রাম দুটিতে তেমন কিছুই ছিল না।

গোয়া সরকার সালাউলিম সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশে সেচ, পানীয় জল ও শিল্প-কারখানার কাজে প্রতিদিন ৪০০ মিলিয়ন লিটার পানি সরবরাহের পরিকল্পনা করে। কিন্তু কুর্দি গ্রামের বাসিন্দারা যেখানে স্থানান্তর হয়েছেন সেখানে এই পানি পৌঁছায়নি। তাই সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য আলাদা পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়।

সূত্র: বিবিসি

/জেএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম