কারাবন্দি জেএমবি নেতা বুলবুল আহমেদ সরকার ওরফে ফুয়াদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতবছর চট্টগ্রামের বাকলিয়া থেকে একজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পিবিআইয়ের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হারুনুর রশীদ ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
চট্টগ্রাম পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হারুনুর রশীদ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার করা ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে বুলবুল ওরফে ফুয়াদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তিনি আরও জানান, বুলবুল আহমেদ সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবির চট্টগ্রাম শাখার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। এর আগে গ্রেফতার হওয়া জেএমবি নেতা এরশাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। এরশাদকে গত বছরের ২৩ মার্চ আকবর শাহ থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ এহেতাশামুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাকলিয়া থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় (২৯/৫/১৫) তাকে শ্যোন অ্যারেস্টও দেখানো হয়। মূলত এই জিজ্ঞাসাবাদে গত ৫ জুন সংঘটিত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় জেএমবির সম্পৃক্ততা যাচাই করা হবে।
এর আগে, সিএমপি ডিবির তৎকালীন এডিসি বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর কর্ণফুলীর খোঁয়াজনগরের জেএমবি আস্তানা থেকে গ্রেফতার করা হয় জেএমবি চট্টগ্রামের সামরিক প্রধান জাবেদ, বুলবুলসহ পাঁচজন। বিপুল বোমা-বিস্ফোরক উদ্ধারের ওই অভিযানের দ্বিতীয় দিনে গ্রেনেড বিস্ফোরণে মারা যায় সামরিক প্রধান জাবেদ।
এরপর, গাইবান্ধার জেএমবি আস্তানা থেকে কারাবন্দি বুলবুলের পাঠানো একটি চিঠি উদ্ধার করে পুলিশ। যেখানে বাবুল আক্তারসহ অভিযানকারী দলকে হত্যার নির্দেশ দেন বুলবুল। সেটি পুলিশ সদর দফতর হয়ে সিএমপিতে এলেও নিরাপত্তাহীনতায় থাকা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু গত ৫ জুন নগরীর জিইসি মোড়ে নির্মমভাবে খুন হন।
বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যাকাণ্ডের পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্দেহ করে হত্যাকাণ্ডে জঙ্গিরা জড়িত। কিন্তু পুলিশ এখনও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
আরও পড়ুন:
আশরাফের মুখ ‘বন্ধ’ করুন: প্রধানমন্ত্রীকে জাসদ
/এমও/এএইচ/








