গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় অর্থের যোগানদাতা, অস্ত্রের উৎস ও সম্ভাব্য সরবরাহকারী এবং প্রশিক্ষণদাতাদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
রবিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা মাসাধিক কাল ধরে এই মামলার তদন্ত করছি। এ ঘটনায় আমরা অনেক তথ্যই পেয়েছি। জঙ্গি অর্থায়ন, অস্ত্রের সম্ভাব্য সরবরাহকারী, প্রশিক্ষণদাতাসহ অনেক তথ্যই আমাদের হাতে রয়েছে। সবগুলো বলার সময় এখনও আসেনি। আমরা আরেকটু আগালে বা আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে পারলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।’
গত ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিককে হত্যা করেন। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল অভিযান চালিয়ে ১৩ জিম্মিকে উদ্ধার করে। এসময় ছয় জঙ্গি নিহত হন। তবে নিহতদের একজনের পরিবার ও বেকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত সাইফুল ইসলাম চৌকিদার ওই রেস্তোরাঁর কর্মচারী ছিলেন।
এদিকে, জঙ্গি হামলার শুরুতেই অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে আহত হয়ে মারা যান পুলিশের দুই কর্মকর্তা। অপরদিকে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আর্টিজান বেকারির আরও একজন কর্মচারী।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর গুলশানে জঙ্গি হামলার পর এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশের নবগঠিত কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটি)।
এ ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, গুলশান হামলায় কারা জড়িত, কারা জড়িত নন, কার কী ধরনের ভূমিকা এ সম্পর্কিত অনেক তথ্যই আমাদের হাতে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ হয়নি। গ্রেফতার অভিযানও শেষ হয়নি। অভিযান চলছে। আরও কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা গেলে আমরা পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করতে পারবো।
তদন্তে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার দাবি করে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, গুলশানের ঘটনার মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যে সব পুলিশ সদস্য সেখানে প্রথম গিয়েছিলেন, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অসংখ্য মানুষের ইন্টারভিউ হচ্ছে। ফাইনালি (শেষ পর্যন্ত) যাদের সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে হবে, তাদের এই মামলায় সাক্ষী করা হবে।
/এনএল/এবি/








