রাজধানীর মেরুল বাড্ডা থেকে আটক জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে (নম্বর ১৩)। শুক্রবার রাতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলায় এ ১৮ জন ছাড়া আরও ১০/১২ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে মেরুল বাড্ডার ইসলামি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যাণ্ড কলেজ থেকে আটককৃত জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলদের সবাই দলটির রুকন। তারা দলের চলমান ২০১৭-১৯ সেশনের আমির নির্বাচনের ভোট প্রদান কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জামায়াতের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশের দাবি,আটক ব্যক্তিরা সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করছিল।
এ বিষয়ে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল জানিয়েছিলেন, স্কুলটির অধ্যক্ষ শামসুন্নাহার নিজামী মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী এবং জামায়াতের নারী বিভাগের সেক্রেটারি। অভিযানের সময় তাকে স্কুলে পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান,ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলটির দুটি শাখা রয়েছে। একটি গুলশানে, অন্যটি মেরুল বাড্ডায়, যেখানে অভিযান চালানো হয়। দুটি শাখার প্রিন্সিপালই নিজামীর স্ত্রী। গুলশান শাখাটিতে অভিযান চালায়নি পুলিশ।
যদিও পুলিশ দাবি করছে,আটককৃতরা সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। বৈঠকের কথা তারা স্বীকারও করেছেন।
পুলিশের তথ্যমতে,আটকৃতদের মধ্যে রয়েছেন,বাড্ডা থানা জামায়াতের আমির ফখরুদ্দিন মো. কেফায়েতুল্লাহ, মেরুল বাড্ডার এই স্কুলটির ভাইস প্রিন্সিপাল, দক্ষিণ বাড্ডার সভাপতি, উত্তর বাড্ডার ইউনিটের জামায়াতের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। উত্তর বাড্ডার মাদ্রাসার একজন শিক্ষকসহ বাড্ডার স্থানীয় জামায়াত নেতা।
জামায়াত সূত্র জানায়,তাদের প্রত্যেকেই দলের রুকন।
শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টের ৮ নম্বর সড়কের ২৫ নম্বর বাসায় অভিযান চালায় বাড্ডা থানা পুলিশ। এসময় পাঁচ নারী ও জামায়াতের ১৮ নেতাকর্মীসহ ২৩ জনকে আটক করা হয়। এরপর বিকেল নাগাদ পাঁচ নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক রাখা হয় বাকি ১৮ জনকে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ছয়তলা বাড়িটির প্রধান ফটকেই ইসলামি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বড় সাইনবোর্ড টানানো রয়েছে। অভিযানের পর পুলিশ বাড়িটির মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, বাড়িটির মালিক বেলাল হোসেন (৬০) একসময় চাকরি করতেন। পরবর্তীতে রড-সিমেন্টের ব্যবসা শুরু করেন। কয়েকমাস আগে তিনি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর এখন আর ব্যবসা করছেন না। বাসাতেই থাকছেন। তার দুই মেয়ে, দুই ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িটির তৃতীয় তলায় থাকেন। চারতলায় চলে স্কুল-কার্যক্রম। ছয়তলার ওপর একটি চিলেকোঠায় থাকেন ভাইস প্রিন্সিপাল ও তার পরিবার। স্কুলটিতে প্লে গ্রুপ থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়।
/এআরআর/এবি/
আরও পড়ুন
পুলিশের দাবি সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, জামায়াত বলছে আমির নির্বাচনি সভা







