ড্যান্ডি ডায়িং মামলায় ফের সময় নিলেন খালেদার আইনজীবীরা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২১ আগস্ট ২০১৬, ১৭:১১আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৬, ১৭:১২

আইন-আদালত ড্যান্ডি ডায়িংয়ের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের দায়ের করা ৪৫ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি মামলায় ফের সময় আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। মামলার স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টের শুনানি আদেশে বিচারপতি স্বাক্ষর করেননি বলে যুক্তি দেখিয়ে এই সময় নেন তারা। এসময় ঢাকার ১ নম্বর অর্থঋণ আদালতের বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস আাগামী ৩০ আগস্ট নতুন তারিখ ধার্য করেন।
মামলার বাদী সোনালী ব্যাংকের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিবাদীদের অন্যতম আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া স্বাক্ষর না করার যুক্তি দেখিয়ে আবারও সাক্ষ্য গ্রহনে সময় চান। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো পেছালো এ মামলার সাক্ষ্য শুনানি।
সোনালী ব্যাংকের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এর আগে ৩ এপ্রিল বাদীর আংশিক জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসাবে নেওয়ার পর বিবাদী খালেদাসহ অপর বিবাদীরা পাঁচটি তারিখে সাক্ষ্য গ্রহন মুলতবি চেয়ে সময় নেন। এ মামলার বিচার্য বিষয়কে (ইস্যু গঠন) চ্যালেঞ্জ করে খালেদার পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে বলে খালেদার পক্ষে সাক্ষ্যগ্রহন মুলতবি চেয়ে বারবার সময় চাওয়া হয়।
এর আগে, গত ৩ এপ্রিল এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৫ বিবাদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সেদিন মামলার বাদী সোনালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম আদালতে আংশিক সাক্ষ্য দেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ না হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৭ এপ্রিল, ১১ মে, ১৯ জুন, ১২ জুলাই, ২১ জুলাই দিন ঠিক করেছিলেন বিচারক।

মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ায় ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক অংশীদারিত্ব মামলায় তার মা খালেদা জিয়া, স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে বিবাদী করার জন্য ২০১৫ সালের ৮ মার্চ আদালতে আবেদন করে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৬ মার্চ ঢাকার অর্থঋণ আদালত ১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক রোকসান আরা হ্যাপী এ মামলায় তাদের বিবাদী করেন।

মামলার অন্য বিবাদীরা হলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার মামা প্রয়াত সাঈদ ইস্কান্দারের ছেলে শামস ইস্কান্দার ও সাফিন ইস্কান্দার, মেয়ে সুমাইয়া ইস্কান্দার ও স্ত্রী বেগম নাসরিন আহমেদ, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন (অন্য মামলায় বর্তমানে কারাগারে), মামুনের স্ত্রী শাহীনা ইয়াসমিন, কাজী গালিব আহমেদ, মিসেস শামসুন নাহার ও মাসুদ হাসান।

মামলার আরজিতে বলা হয়, ১৯৯৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিবাদীরা ড্যান্ডি ডায়িংয়ের অনুকূলে সোনালী ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করেন। ওই বছরের ৯ মে সোনালী ব্যাংক ঋণ মঞ্জুর করে। ২০০১ সালের ১৬ অক্টোবর বিবাদীদের আবেদনক্রমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তাদের সুদ মওকুফ করে। পরবর্তীতে বিবাদীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক আবারও ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করে দেয়। কিন্তু বিবাদীরা ঋণ পরিশোধ না করে বারবার কালক্ষেপণ করতে থাকেন।

পরে ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য বিবাদীদের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কোনো ঋণ পরিশোধ করেননি। ফলে ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৫ টাকা ঋণখেলাপির অভিযোগে ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক স্থানীয় শাখার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা (বর্তমানে উপ-মহাব্যবস্থাপক) নজরুল ইসলাম। ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াসহ ১৫ বিবাদীর বিরুদ্ধে ইস্যু গঠন করেন বিচারক।

/এসআইটি/এমও/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম