বলিউডের চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী গুলশান কুমার হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবদুর রউফ ওরফে দাউদ মার্চেন্টকে ফৌযদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম একে এম মঈন উদ্দিন সিদ্দিকী এ আদেশ দেন।
এর আগে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষে উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম রসুল অব্যাহতির আবেদন করেন। আবেদনটি বিচারক মঞ্জুর করলে দাউদ মার্চেন্ট অব্যাহতি পান।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আবদুর রউফ ওরফে দাউদ মার্চেন্টকে পুলিশ আদালতে হাজির করে। বিচারক শুনানি শেষে অব্যাহতির আবেদন মন্জুর করেন।’
দাউদ মার্চেন্ট দুবাইয়ে থাকা ভারতীয় ‘মাফিয়া ডন’ দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে ধরা পরার পর পাঁচ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন তিনি।
মুম্বাইয়ের সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি-সিরিজের মালিক গুলশান কুমারকে ১৯৯৭ সালের ১২ আগস্ট আন্ধেরি এলাকার একটি মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার সময় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।
এ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন ভাড়াটে খুনি দাউদ মার্চেন্টকে গ্রেফতারের পর ২০০২ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন ভারতের একটি আদালত। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দাউদ। পরে ২০০৯ সালে ১৪ দিনের প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর পালিয়ে যান তিনি।
ওই বছরের ২৮ মে ভারত সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এক সহযোগীসহ দাউদ মার্চেন্টকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশের পুলিশ। পাসপোর্ট আইনে একটি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। ওই সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দাউদ অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছিলেন।
এরপর ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন দাউদ। তবে সেদিনই গাজীপুর থেকে তাকে আবারও গ্রেফতার করা হয়। এখন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের কারাগারেই বন্দি আছেন।
তবে পুলিশের করা অব্যাহতির আবেদন আদালত আমলে নিলে দাউদ মার্চেন্টের মুক্তিতে আর কোনও বাধা থাকবে না। ৫৪ ধারা অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে পুলিশ কোনও অভিযুক্তের অপরাধ প্রমাণ করতে না পারলে আইন অনুযায়ী ওই ব্যক্তিকে মামলা থেকে অব্যহতি দিতে আবেদন করে পুলিশ।
/এসআইটি/এমএনএইচ/








