মুখে লাল কাপড় বেঁধে, মোমবাতি প্রজ্বলন করে শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে মৌন প্রতিবাদ জানিয়েছেন মায়েরা। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে ‘ধর্ষকের রক্তাক্ত থাবা থেকে শিশুদের বাঁচাও’ শীর্ষক ব্যানারে তারা এ প্রতিবাদ জানান।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্নস্থানে শিশু ধর্ষনের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় একটি ফেসবুক গ্রুপের আহ্বানে এ প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের একজন লিনা ফেরদৌস বলেন, ‘একজন মা হিসেবে আজ আমরা এ প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আজকে শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করলে ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। এখনই সময় প্রতিবাদ করার, প্রতিরোধ গড়ার।’
এ সময় ব্যতিক্রমী শাস্তির বিধান হোক, আঁতকে উঠুক শিশু নির্যাতক, বন্ধ করো ধর্ষণ, প্রতিরোধ করো ধর্ষকদের, স্টপ রেইপ, স্টপ চাইল্ড রেইপ, উই নিড সেফ বাংলাদেশ লেখা বিভিন্ন পোস্টার গলায় ঝুলিয়ে, মুখে লাল কাপড় বেঁধে নীরব প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে তাদের।
উপস্থিত মায়েরা জানান, আজ শিশুসহ মেয়েরা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অবস্থা এমনই আশঙ্কাজনক হয়েছে, বাইরে বের হলে নিরাপদে ঘরে ফিরবে কিনা, এমন উৎকণ্ঠায় সময় কাটাতে হয়।
তারা আরও বলেন, শুধু বাইরে নয়। মেয়েরা ঘরেও নির্যাতনে শিকার হচ্ছে। এর জন্য নারীদের সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি সামাজিকভাবেও একটা সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। শুধু নারীকে সচেতন হলে হবে না। গড়ে তুলতে হবে সামাজিক সচেতনতাও।
উপস্থিত মায়েরা ধর্ষকদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। দ্রুত বিচারের পাশাপাশি সেটা যেন দৃষ্টান্তমূলক ও ব্যতিক্রমী হয় তার দাবিও জানান তারা।
আয়োজকদের একজন লিনা ফেরদৌস বলেন, ‘ধর্ষকদের চিহ্নিত করার সঙ্গে পারিবারিকভাবেও তাদের বয়কট করতে হবে। তাদের এমন শাস্তি দিতে হবে যা দেখে অন্য কেউ চিন্তা করারও সাহস পাবে না।’ধর্ষকদের বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, সৌদি আরবের মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
প্রতিবাদ সভায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা মেরিনা ইয়াসমিন, উইমেন চাপ্টারের সম্পাদক সুপ্রীতি ধর, চয়নিকা চৌধুরীসহ অর্ধশতাধিক মা ও বেশ কয়েকজন বাবাও উপস্থিত ছিলেন। এসময় উইমেন চ্যাপ্টারের ব্যানারে এর অসংখ্য লেখক ও পাঠকরাও অংশ নেন।
আরজে/ এমএনএইচ/








