রাজধানীর কাওরানবাজারে এক ডিম ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ছিনতাই চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া দুই পুলিশ কনস্টেবলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার দুপুরে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক দেবরাজ চক্রবর্তী তাদের মহানগর মুখ্য হাকিম সারাফুজ্জামান আনসারীর আদালতে উপস্থিত করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত এ আদেশ দেন।
এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাদের নির্দোষ দাবি করে উভয়ের জামিন প্রার্থণা করলে সে আবেদন নাকচ করেন আদালত।
আসামিরা হচ্ছে পুলিশের দুই কনস্টেবল মো. লতিফুজ্জামান ও রাজিকুল ইসলাম। তারা ডিএমপি ট্রাফিক জোনের উত্তর বিভাগের গুলশান জোনে কর্মরত।
তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম সরকার দাবি করেন, তার দুই মক্কেল ওই সময়ে ঘটনার শিকার হয়েছেন। এই আইনজীবীর দাবি, পুলিশ কনস্টেবল লতিফুজ্জামান ও রাজিকুল ইসলাম ডিউটি শেষে বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে কারওয়ান বাজারে এক ডিমওয়ালার সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ সময় তারা মোটর সাইকেল তুলতে গেলে ওই ডিমওয়ালা তাদের ছিনতাইকারী সন্দেহ করে চিৎকার করে ওঠে। এর এক পর্যায়ে তাদেরকে ছিনতাইকারী হিসাবে পুলিশ আটক করে।
অন্যদিকে, ঘটনার শিকার ডিম ব্যবসায়ী আবদুল বাসির মনা শুক্রবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর লালবাগে ডিম সাপ্লাই দিয়ে টাকা নিয়ে তেজগাঁয় ডিমের আড়তে ফিরছিলেন তিনি। সঙ্গে ৪০ হাজার টাকা ছিল। যে ভ্যানে করে ডিম সাপ্লাই দেন সেই ভ্যানচালকও ছিলেন। এ সময় মোটর সাইকেল চালিয়ে পুলিশের কনস্টেবল লতিফুজ্জামান ও এক আনসার সদস্য কাওরান বাজার মোড়ে (কাঁঠালবাগানের দিকের রাস্তায়) তাদের পথ আটকায়।
মনা বলেন, ‘তারা আমাদের জিজ্ঞেস করে ‘‘কই গেছিলি? গাঁজা খাস? পকেটে গাঁজা আছে? এ সময় আমি টাকা ও পকেটে থাকা চাবি বের করলে তারা টাকাগুলা ছোঁ মেরে নিয়া মোটরসাইকেলে টান দেয়। এসময় আমি পেছন থেকে আনসারের ওই সদস্যকে জাপটে ধরি। তখন মোটরসাইকেল থেকে তারা পড়ে গেলে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার দেই। তবে পুলিশের পোশাক দেখে অনেকেই সাহায্যের জন্য আসতে চায়নি। পরে আশপাশের লোকজন ও দায়িত্বরত পুলিশ এসে শাহবাগ থানায় খবর দেয়। শাহবাগ থানা পুলিশ কনস্টেবলকে ধরে নিয়ে গেলেও আনসার সদস্য পালিয়ে যায়।’
তবে পুলিশ পরে জানতে পারে অপরজনও পুলিশ কনস্টেবল এবং তার নাম রাজিকুল ইসলাম।
পরে এ ঘটনায় দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।
/এসআইটি/আরএইচ/টিএন/আপ-এইচকে/








