নিম্ন আদালতের বিচারকদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রস্তাবিত আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধির খসড়া গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজন নেই বলে এক পরিপত্রে জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। রবিবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আপাতত এই বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) বারবার সময় দেওয়ার পরও অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা সরকার গেজেট আকারে প্রকাশ না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে আদালতে হাজির হতে বলেছিলেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আট বিচারপরিত আপিল বেঞ্চ।
উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের বিদেশে থাকায় গেজেট প্রকাশের জন্য এক সপ্তাহ সময় নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। আদালত ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট আদালতে দাখিল করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেন।
মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করার জন্য রায় দেন সুপ্রিম কোর্ট। ওই মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে যায় বিচার বিভাগ। ওই সময় নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির একটি খসড়া মন্ত্রণালয় থেকে আদালতে দাখিল করা হয়। খসড়াটির সঙ্গে ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু মিল থাকায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী রায় দেন আপিল বিভাগ। ওই রায় ঘোষণা করা হয় চলতি বছরের ২৮ আগাস্ট। রায় ঘোষণার পর ওই খসড়া সংশোধন করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে ৬ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে জমা দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু ৬ নভেম্বর মামলাটি শুনানির তারিখে আদালতকে কোনও অগ্রগতি জানাতে পারেননি অ্যাটর্নি জেনারেল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশিত বিধিমালা চূড়ান্তের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা লিখিতভাবে জানানোর জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।
গত ৭ নভেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল সময় চাইলে ২৪ নভেম্বরের মধ্যে বিধিমালা চূড়ান্ত করে তা গেজেট আকারে জারি করে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। ওই তারিখেও সরকার বিধিমালা জমা না দিয়ে আরও দুই দফা সময় নেয়।
সবশেষে বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) দুই সচিবকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য আপিল বিভাগ নির্দেশ দিলে তিনদিন পর রবিবার পরিপত্র জারি করে সরকার। এতে বলা হয়, অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রস্তাবিত আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধির খসড়া গেজেট আকারে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই।
/ইউআই/এমএনএইচ/








