বাবাকে হারিয়েছে আগেই। মা নিজের গায়ে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিহত হয়েছে। এসময় মায়ের বাম হাতে ধরা ছিল সাত বছরের সামিনা ওরফে আফিফা ওরফে সাবিনা। সেই বিস্ফোরণে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে সাবিনার ছোট্ট শরীর। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে যখন ভর্তি করে, তখন তার মা শাকিরার নিথর দেহ পড়ে আছে আশকোনার জঙ্গি আস্তানায়। হতবাক ও আশঙ্কার মধ্যেই গত দুদিন ধরে হাসপাতালের বেডে রয়েছে সাবিনা। পুলিশের তত্ত্বাবধানে সেখানেই চলছে তার চিকিৎসা। তার বিষয়ে পুলিশেরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খোঁজ রাখছেন। জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষে দায়ের করা মামলাতে সাবিনাকে আসামি করেনি পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আশকোনার জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু সামিনা ওরফে আফিফা ওরফে সাবিনা (৭) কে আসামি করা হয়নি। যে আটজনের নাম উল্লেখ করে দক্ষিণ খান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, তাতে সাবিনার নাম নেই।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকে রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন পূর্ব আশকোনার ৫০ নম্বর বাসার নিচতলায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ। এসময় দুই নারী জঙ্গি দুটি শিশুসহ আত্মসমর্পণ করে। ওই দুই নারী জঙ্গি হলো, আশা মনি ও জেবুন্নাহার ইসলাম শিলা। শিলা হচ্ছে মিরপুরের রূপনগরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী। তবে পুলিশ আস্তানার ভেতরে থাকা শাকিরা ওরফে তাহিরা, তার সাত বছরের মেয়ে সাবিনা ও কিশোর আফিফ কাদেরী আদর (১৪)কে আত্মসমর্পণের অনুরোধ করলেও তারা আত্মসমর্পণ করেনি।
শাকিরা সুইসাইডাল ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাসার গেটের সামনেই আত্মঘাতী হয়েছেন। বিস্ফোরণের সময় তার মা শাকিরা তাকে বাম হাত দিয়ে ধরা ছিল। গ্রেনেডের বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয় সাবিনা। পুলিশের গোলাগুলিতে আফিফ কাদেরী আদর নিহত হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরে এক অভিযানে আফিফের বাবা জঙ্গি নেতা তানভীর কাদেরী নিজেই আত্মঘাতী হয়। ওই সময় আফিফের জমজ ভাই তাহরীম ও মা আবেদাতুল ফাতেমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এর প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আশকোনায় জঙ্গি আস্তানায় নিহত শাকিরার প্রথম স্বামীর নাম ইকবাল।ক্যানসারে ইকবালের মৃত্যু হলে জঙ্গি সুমনের সঙ্গে বিয়ে হয় শাকিরার। ইকবালের সংসারে জন্ম সাবিনার। মূলত সুমনের সঙ্গে বিয়ের পর সাবিনার মা শাকিরা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই আহতাবস্থায় আমরা শিশুটিকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাই। সে এখন আশঙ্কামুক্ত। আমরা তার খোঁজ নিচ্ছি।’
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহীনুল ইসলাম বাদী হয়ে দক্ষিণ খান থানায় যে মামলা দায়ের করেছেন, তাতে এদের সবাইকে আসামি করা হয়েছে।
এ মামলার আসামিরা হলো- ১. তৃষা মনি ওরফে উম্মে আয়েশা (২২), পিতা- আব্দুস সামাদ আলী, মাতা- নাজমা বেগম, স্বামী- মইনুল ইসলাম ওরফে আবু মুসা, গ্রাম- সাইপাড়া (সামাদ সরদারের বাড়ি), থানা- বাঘমারা, জেলা- রাজশাহী। ২. জেবুন্নাহার ওরফে শিলা ওরফে সুমাইয়া ওরফে মারজুন (৩৪), পিতা- হাজী মমিনুল ইসলাম মজুমদার, মাতা- জোহরা আক্তার চৌধুরী, স্বামী- মৃত মেজর জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহাঙ্গীর আলম মুরাদ ওরফে মেজর জাহিদ, গ্রাম-মধ্য ধনাইতরী (বড় বাড়ি) থানা- সদর দক্ষিণ, জেলা- কুমিল্লা ।৩. মৃত শাকিরা ওরফে তাহিরা (৩৫), পিতা- ঠিকানা অজ্ঞাত। ৪. মৃত আফিফ কাদেরী ওরফে আদর (১৪), পিতা- ঠিকানা অজ্ঞাত। ৫. মো. মইনুল ইসলাম ওরফে আবু মুসা (২৯), পিতা- মৃত, কামাল হোসেন, মাতা- সুফিয়া বেগম, গ্রাম- বুজরাত কোলা ,থানা- বাঘমারা, জেলা- রাজশাহী। ৬. রাশেদুর রহমান সুমন (২৪), পিতা ও ঠিকানা- অজ্ঞাত। ৭. মো. সেলিম (২৬), ঠিকানা- অজ্ঞাত ও ৮. মো ফিরোজ (২০) এবং অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জন।
আরও পড়ুন: সাবিনাকে দেখতে কেউ আসেনি
/এআরআর/এপিএইচ/আপ-এমও/








