রাজধানীর বনানী থানায় দুই তরুণী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে মামলা দায়েরের পরপরই বন্ধুদের ছেড়ে পালিয়ে যায় আসামি নাঈম আশরাফ। মামলার অন্য চার আসামি সাফাত আহমেদ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদের সঙ্গেই প্রথম কয়েকদিন আত্মগোপন করেছিল সে। কিন্তু পরে তাদের ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে নাঈম।
পুলিশ বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, নাঈমকে ধরতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে শুক্রবার (১২ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, ‘ধর্ষণ মামলার পাঁচ আসামির দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাঈমসহ বাকি তিন জনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তার সম্ভাব্য আত্মগোপনে থাকার স্থানগুলো চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, ৪৮ ঘণ্টা তালবাহানার পর গত ৬ মে সন্ধ্যায় মামলা নথিভুক্ত করে বনানী থানা পুলিশ। থানায় মামলা দায়েরের আগ পর্যন্ত নাঈম তার বন্ধু সাদাত ও সাদমানের সঙ্গেই ছিল। কিন্তু মামলা দায়ের হওয়ার খবর পেয়েই বাকিদের ছেড়ে একা আত্মগোপনে চলে যায় সে। সেদিন থেকে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নাঈম আগাগোড়া একজন প্রতারক। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে। সবাই তাকে আব্দুল হালিম ওরফে হাসান মোহাম্মদ হালিম নামেই চেনে। কিন্তু ঢাকায় সে নাঈম আশরাফ নামে পরিচিত ছিল। বিভিন্ন রকম প্রতারণা এবং ভারত থেকে তৃতীয় গ্রেডের শোবিজ তারকাদের ঢাকায় এনে ডিজে পার্টি করতো সে। এসব পার্টিতে সে বড়লোকের ছেলেদের নানাভাবে ভুলিয়ে-ভালিয়ে অর্থ বাগিয়ে নিতো।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গান্ধাইল গ্রামের দিনমজুর ও ফেরিওয়ালা আমজাদ হোসেনের একমাত্র ছেলে আব্দুল হালিম। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা পড়ার কারণে এলাকায় সে ‘ইঞ্জিনিয়ার হালিম’ নামেও পরিচিত। এছাড়া ‘টাউট হালিম’ নামেও ডাকেন অনেকে। ঢাকায় সে ই-মেকার্স নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান চালাতো।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, নাঈম এখনও দেশের ভেতরেই অবস্থান করছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম তাকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা করছে।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই শিক্ষার্থীদের জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। ওইদিনই তারা ওই ছাত্রীদের বনানীর কে-ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে দ্য রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যায়।
মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়— সেখানে জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে মামলার সাফাত ও নাঈম।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাতে সাফাত ও সাদমানকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাফাতকে ৬ দিন ও সাদমানকে ৫ দিন রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তবে এই মামলার অন্যতম আরেক আসামি নাঈম আশরাফসহ গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ এখনও পলাতক।
/এনএল/জেএইচ/








