বনানীতে ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি বাহাউদ্দিন ইভানকে বনানী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের সময় বেশকিছু আলামতের একটি সিজারলিস্ট সরবরাহ করেছে র্যাব। শুক্রবার (৭ জুলাই) সেটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
গত ৫ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলার র্যাব-১১’র একটি অভিযান পরিচালনাকারী টিম ইভানকে গ্রেফতারের পরপরই তার কাছ থেকে কিছু আলামত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন করে। শুক্রবার সেগুলো ও আলামতের ধরন এবং নামের একটি তালিকা (সিজারলিস্ট) বনানী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের প্রধান মুফতি মাহমুদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বনানী থানায় দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলার আসামি ইভানকে হন্তান্তরের সময় কিছু আলামত ও এর একটি সিজারলিস্ট বনানী থানা পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।’
কী কী আলামত বুঝে পেয়েছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরমান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলা তদন্তাধীন, তাই এ বিষয় নিয়ে কোনও কথা বলতে পারবো না।’
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, র্যাবের কাছ থেকে যেসব আলামত ও তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে ওসি ফরমান আলী, পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মতিন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার বৈঠক করেছেন। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে তদন্তের পরবর্তী করণীয় ও কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।
ধর্ষণের শিকার তরুণী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছিলেন— তার ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে ইভান। এসব জিনিসপত্রের কোনোকিছু পুলিশের হেফাজতে এসেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এসব জিনিস উদ্ধারের জন্যই আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
গত ৪ জুলাই বনানীতে জন্মদিনের পার্টির কথা বলে ইভান বাসায় দাওয়াত দিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ তোলে তার পূর্বপরিচিত এক তরুণী। এরপর ৫ জুলাই ওই তরুণী বনানী থানায় গিয়ে ইভানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এরপর তরুণীকে নিয়ে ইভানের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। তাকে না পেয়ে ওইদিন দুপুরেই পুলিশ তরুণীর অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। আসামি বাসা থেকে পালিয়ে নারায়ণগঞ্জে আশ্রয় নিলে র্যাব তাকে গ্রেফতার করে।
/এসএমএন/জেএইচ/








