রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন সেন্টারের (ব্যান্সডক) প্রশাসন শাখার উচ্চমান সহকারী শহিদ উল্লাহকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল। বৃহস্পতিবার ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সহকর্মীদের অভিযোগ, ঘুষ ছাড়া কোনও কাজই করতো না শহিদ উল্লাহ। ফাইল আটকে বেতন কাটার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় সহকর্মীদের কাছ থেকেও ঘুষ আদায় করতো সে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, ব্যান্সডক অফিসের ৪র্থ শ্রেণির চার কর্মচারী সুইপার রফিকুল ইসলাম, মালি হালিমা বেগম, ডিএমও রওশন আরা এবং সিনিয়র রেকর্ড কিপার মঙ্গল মিয়ার পক্ষে জনৈক সায়েম খান প্রশাসন শাখার উচ্চমান সহকারী শহিদ উল্লাহকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার সময় দুদক কর্মকর্তা নূর-ই আলমসহ পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ দল তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, শহিদ উল্লাহ ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন সেন্টারের (ব্যান্সডক) প্রশাসন শাখায় কর্মরত আছে। সে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক কাজকর্মের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কাজের জন্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফাইল আটকে রেখে ঘুষ হিসেবে টাকা আদায় করে। বৃহস্পতিবার চার কর্মচারী রফিকুল ইসলাম, হালিমা বেগম, রওশন আরা ও মঙ্গল মিয়ার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে।
এই বিষয়টি ওই চার কর্মচারী ব্যান্সডক কর্মকর্তা সায়েম খানকে জানান। তিনি বিষয়টি দুদকের হটলাইনে অবহিত করেন। বৃহস্পতিবার ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে সেটিও দুদককে অবহিত করা হয়। এ তথ্য পেয়ে দুদকের দলটি ব্যান্সডকে ওৎ পেতে থাকে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই টাকা নেওয়ার সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
এ ব্যাপারে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এর উপসহকারী পরিচালক নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় শহিদ উল্লাহর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।








