সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির কাছে পদত্যাগের কথা বললেও পরে রাষ্ট্রপতির কাছে ছুটির দরখাস্ত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা। শনিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছাড়া আপিল বিভাগের অন্য পাঁচ বিচারপতিকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরমধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বিচারপতিদের কাছে জানান রাষ্ট্রপতি। তবে বিচারপতি ইমান আলী দেশের বাইরে থাকায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।
গত ১ অক্টোবর আপিল বিভাগের উল্লিখিত পাঁচ বিচারপতি এক বৈঠকে ওই ১১টি অভিযোগ বিশদভাবে পর্যালোচনা করেন। এরপর এসব গুরুতর অভিযোগ প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন এই পাঁচ বিচারপতি। তিনি ওই সব অভিযোগের ব্যাপারে কোনও সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হলে, তার সঙ্গে বিচারালয়ে বসে বিচার কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না বলে তারা জানান। এরপর ওইদিনই বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার হেয়ার রোডের বাসায় সাক্ষাৎ করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেন।কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরও তার কাছ থেকে কোনও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এরপর প্রধান বিচারপতিকে আপিল বিভাগের ওই পাঁচ বিচারপতি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, অভিযোগগুলোর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে বিচার কাজ পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা জানান, তিনি পদত্যাগ করবেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১ অক্টোবর আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির কাছে পদত্যাগের কথা জানিয়ে পরদিন (২ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা উল্লিখিত বিচারপতিদের কিছু না জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে একমাসের ছুটির আবেদন করেছেন।








