অভিনব কায়দায় স্বর্ণের চোরাচালান আনতে গিয়ে ধরা পড়েছেন এক ব্যক্তি। তার রেক্টামে লুকায়িত অবস্থায় সাতটি ও মানিব্যাগ থেকে একটিসহ মোট আটটি সোনার বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা। স্বর্ণগুলোর ওজন ৮০০ গ্রাম, এর বাজার মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তির নাম মোশারফ হোসেন। বুধবার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি০৮৭ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে সে।
এদিকে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ছিল স্বর্ণের চোরাচালান আসছে। ফলে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন তারা।
কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে গ্রিন চ্যানেল পেরিয়ে চলে যাওয়ার সময় মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা মোশারফ হোসেনকে চ্যালেঞ্জ করে শুল্ক গোয়েন্দার দল। তবে শরীরে স্বর্ণ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে সে।
শুরুতে স্বীকার না করায় ওই যাত্রীকে আর্চওয়ে মেশিনে হাঁটিয়ে রেক্টামে স্বর্ণ লুকিয়ে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হন গোয়েন্দারা। তারা আরও জানান, আটক ব্যক্তি নিজে থেকে বের না করে দেওয়ায় তাকে উত্তরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে এক্স-রে করানো হয়। রিপোর্টে তার তলপেটে স্বর্ণের অস্তিত্ব সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হয় শুল্ক গোয়েন্দা দল।
এরপর ওই যাত্রীকে বিমানবন্দরে এনে শরীর থেকে স্বর্ণ বের করার চেষ্টা চলতে থাকে। কলা ও প্যাকেট জুস খাওয়ানোর পর বিশেষ কায়দায় পায়ুপথ দিয়ে সাতটি সোনার বার বের করা হয়। একইসঙ্গে তার মানিব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় আরেকটি বার।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যাত্রী শুল্ক গোয়েন্দাদের জানায়, আকাশপথে টয়লেটের ভেতরে নিজেই একটি একটি করে সোনার বার সরাসরি রেক্টামে প্রবেশ করায়। এভাবে একে একে সাতটি সোনার বার সে শরীরে ঢোকায়। বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই জীবনের ঝুঁকি থাকলেও অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এই পন্থা বেছে নিয়েছে বলে জানায় সে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান— মোশারফ হোসেনের পাসপোর্ট পরীক্ষায় দেখা যায়, ২০১৭ সালে ৫০ বার কুয়ালালামপুরে যাতায়াত করেছে সে। তবে প্রতিবার স্বর্ণ বহন করেছিল কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে।
ড. মইনুল খান আরও জানান, আটক স্বর্ণ জমা দেওয়া হবে কাস্টমসের গুদামে। পরে তা বিশেষ নিরাপত্তায় নেওয়া হবে বাংলাদেশ ব্যাংকে।








