ঢাকা জেলা প্রশাসনের চিহ্নিত ৫৮টি খালে নির্মাণকাজ ও দখল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এসব খাল ও জলাধার দখলমুক্ত করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, জেলা প্রশাসককে তা ২ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘ঢাকার খালে ২৪৮ দখলদার’ শিরোনামের প্রতিবেদন নজরে নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত এই আদেশ দেন।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত খালগুলো ব্যক্তি ও সংস্থার কাছ থেকে পুনরুদ্ধারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, রাজউক চেয়ারম্যান, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে রুলের জবাব জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া একই সময়ে মিরপুরের রূপনগর খালের জল নিষ্কাশন ব্যাহত করে এমন কার্যক্রম বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রূপনগর খালের জলসীমা নির্ধারণ করার পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ঢাকার জেলা প্রশাসককে তা ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর এলাকায় ৫৮টি খাল চিহ্নিত করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ৩৭টি খালের অংশবিশেষ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) তিনটি সরকারি ও সাতটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং ২৪৮ জন ব্যক্তির দখলে রয়েছে। ফলে খালগুলোর প্রবাহ আর স্বাভাবিক নেই।
জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২২টি খালের মধ্যে একমাত্র ধোলাইখালের একটা অংশ (সূত্রাপুর লোহারপুল থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত) ও মেরাদিয়া খাল সচল আছে। বাকি সব খালের জায়গায় এখন রাস্তা।
এদিকে, একই আদালত পৃথক আরেকটি আদেশে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং সরকারি কলেজের জমি দখল করে নির্মাণাধীন ভবন অপসারণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। একইসঙ্গে নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
স্থানীয় সরকার সচিব, শিক্ষা সচিব, ভূমি সচিব, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক, লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভবন নির্মাণকারী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বেপারীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কলেজের জমি দখলে নিয়ে ভবন নির্মাণকারী জাকির হোসেন বেপারীর বিরুদ্ধে কী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে বলেছেন আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।








