আদালত নির্দেশ দেওয়ার পরও শিশু আইন সংশোধন না করায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১২ নভেস্বর আদালতের হাজির হয়ে তাদের ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশ সময়মতো না পাঠানোয় হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি বিবিধ শাখার কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে ভর্ৎসনাও করেন আদালত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত বলেন, ‘যে ফাইলে তদবির হয় না, সেই ফাইল নড়ে না, তাই কি? নাকি আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বিধায় এ অবস্থা?’
পরে আদালত ফের তলবের আদেশ দিয়ে পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।
এরআগে গত ১৫ অক্টোবর সমাজকল্যাণ সচিবকে তলব করে আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ওই আদেশের সমাজকল্যাণ সচিবকে রবিার সশরীরে হাজির হওয়ার কথা ছিল। এদিন আদালতে এ মামলার কার্যক্রম শুরু হলে সচিবের পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আশিকুর রহমান আদালতকে জানান, তলবের আদেশ সংক্রান্ত কোনও নোটিশ তারা পাননি। এ সময় আদালত হাইকোর্ট বিভাগের বিবিধ (ফৌজদারি) শাখার কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানতে চান। তখন তারা সন্তোষজনক জবাব না দিতে পারায় আদালত তাদের প্রতি ভর্ৎসনা করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ঢাকা, কক্সবাজার ও রংপুরে করা পৃথক চার মামলায় বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করে। চারটি মামলার মধ্যে দু’টি করা হয় শিশু আইনে, অন্য দু’টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। পৃথক দুই আইনে দায়ের হওয়া মামলার সাজাও আলাদা। শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি প্রাপ্ত বয়স্ক হলে তার বিচার কোন আইনে বা কোন আদালতে হবে, সে বিষয়ে গতবছর ১৪ আগস্ট ওই তিন সচিবের কাছে ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হলেও কেউই ব্যাখ্যা দাখিল করেননি। এ কারণে ওই বছরের ৩১ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে রুল জারি করেন।
এরপর গতবছর ডিসেম্বরে তারা আদালতকে জানান, শিশু আইন-২০১৩ সংশোধনের মাধ্যমে অস্পষ্টতা দূর করা হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওই আইন সংশোধনের ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালত সমাজ কল্যাণ সচিবকে তলব করে এ আদেশ দেন।








