সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা মামলার রায় পড়া আগামী রবিবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) এ মামলায় দ্বিতীয় দিনের মতো রায় পড়া শুরু হলেও তা শেষ হয়নি। এ কারণে বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রায় মুলতবি রাখার আদেশ দেন।
এ সময় আদালতে ছিলেন ব্যারিস্টার ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ।
২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হন চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিশুক মুনীর। তারেক ও মিশুককে বহনকারী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে চুয়াডাঙ্গাগামী একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে তারেক-মিশুকসহ মাইক্রোবাসের পাঁচ আরোহী নিহত হন।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। এছাড়া ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জে মোটরযান অর্ডিন্যান্সে ১২৮ ধারায় বাস মালিক, চালক ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ড্রাইভার জমির হোসেন, বাস মালিক কাসেদ মিয়া, মুজিবুল হক, মো. তুহিন, রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানিকে বিবাদী করা হয়। বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাসহ সবাই জামিনে আছেন।
মামলায় তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ প্রথমে ৭ কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৫২ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পরে ক্ষতিপূরণের দাবি বাড়িয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা করা হয়।
এরপর সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মামলা দুটি জনস্বার্থে হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন বাদীরা। মামলায় পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদের আলোকে মামলাটি হাইকোর্টে বদলির জন্য বাদীদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
২০১৬ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে ক্যাথরিন মাসুদের দায়ের করা ক্ষতিপূরণ মামলার শুনানি শুরু হয়। আদালতে তার পক্ষে সাতজন, বাস মালিক সমিতির পক্ষে পাঁচজন ও রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে একজন সাক্ষী দেন।
এ মামলায় তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে শুনানি করেন ড. কামাল হোসেন। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা বাস মালিকদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার। এছাড়া রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার ইহসান এ সিদ্দিকী। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইসরাত জাহান।
মামলায় উভয়পক্ষের শুনানি শেষে গত ২৯ নভেম্বর রায়ের দিন ধার্য করা হয়। বুধবার (২৯ নভেম্বর) সকাল থেকে রায় পড়া শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বিকাল পর্যন্ত চলে। কিন্তু দিন শেষে রায় পড়া শেষ না হওয়ায় তা আগামী রবিবার পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়।







