২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ১৮ পলাতক আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) পলাতক আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানির তৃতীয় দিনে পলাতক আসামি জাহাঙ্গীর আলম বদরের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী সাইদুল হক, রাতুল আহমদ বাবুর পক্ষে অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান ও মহিবুল মোত্তাকিনের পক্ষে অ্যাডভোকেট হালিমা আক্তার যুক্তিতর্ক পেশ করেন। এই নিয়ে পর্যন্ত ৮ জন পলাতক আসামির রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করেছেন। তবে বাকি পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীদের কেউ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বলেন, ‘মাওলানা মো. তাজ উদ্দিন, মো. ইকবাল, মাওলানা লিটন, তারেক রহমান, মুফতি শহিদুর রহমান ও মুফতি আবদুল হাইয়ের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন এখনও বাকি।’ তবে এই পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত কোনও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে পলাতক আসামিদের মধ্যে হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার, পলাতক মো. খলিলের পক্ষে অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান খান, বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আশরাফ-উল আলম, বিএনপি নেতা পলাতক হারিছ চৌধুরীর পক্ষে অ্যাডভোকেট আবু তৈয়ব ও পলাতক আনিসুল মোরসালিনের পক্ষে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন।
মঙ্গলবার শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘উপস্থিত আসামিদের পক্ষে কেউ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন? এমন একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে বলে আমি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, আপনারা নিজরা ঠিক করে নিন, কে কার পরে করবেন।’ তিনি বলেন, ‘একটা যুক্তি হয়তো দেখাবেন যে, রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবীরা শেষ করলে আপনারা করবেন। কিন্তু পরিস্থিতি কিংবা কোনও অসুস্থতার কারণে তারা নাও আসতে পারেন। সে জন্যই তো কোর্ট বসে থাকতে পারেন না। রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবীদের সব শেষ হলেই যে আপনারা আরম্ভ করবেন, তা নয়। কারও অসুবিধাও থাকতে পারে।’
এ সময় আদালত উপস্থিত আইনজীবীদের কাছে বিচারক জানতে চান, ‘রাষ্ট্র নিয়োজিত কোনও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন কিনা, এমন কোনও তথ্য আছে কিনা?’ তখন অ্যাডভোকেট চৈতন্য চন্দ্র হালদার আদালতকে বলেন, ‘পলাতক আসামি তারেক জিয়ার পক্ষের আইনজীবী আবু আল মো. আকতার হোসেন অসুস্থ। তিনি দু’দিন পর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন।’ এ সময় বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বলেন, ‘আমি তো বলেছি, আবহাওয়াজনিত কারণে কেউ হয়তো অসুস্থ হতে পারেন, তাই বলে কেউ থাকবেন না, অন্যরা তো উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া উপস্থিত যারা আছেন, তাদের পক্ষে যুক্তিতর্ক আরম্ভ করে দিন। কোর্ট তো বসে থাকবেন না। সময় তো এখনও আছে।’
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান আদালতকে বলেন, ‘উপস্থিত আসামিদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত আছেন। তাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া আছে। আদালত একাধিকবার প্রস্তুতির ব্যাপারে বলেও দিয়েছেন।’ এ সময় সাইফুর রশিদ সবুজ নামের এক আইনজীবীকে যুক্তিতর্ক উপস্থান করতে আহ্বান জানান। আইনজীবী সবুজ জানান, কেউ যুক্তিতর্ক শুনানি না করলে বুধবার (১০ জানুয়ারি) তিনি করবেন।
বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বলেন, ‘আমার স্কুলের কথা মনে পড়ে গেলো। যেমন কোনও চ্যাপ্টার পড়ে আসার জন্য স্যার বলতেন। পরের দিন যখন স্যার জিজ্ঞেস করতেন তখন স্যারের মুখের দিকে তাকাতাম না। তাকালেই যদি জিজ্ঞেস করে ফেলেন আমাকে। একজনের ঘাড়ের পেছনে আরেকজন মুখ লুকিয়ে রাখতাম। আজকের ঘটনা, সেটাই মনে করিয়ে দিলো। সাংবাদিক ভাইয়েরাও এখানে আছেন। তারাও ব্যাপারটা এনজয় করছেন।’
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘এটা বিচার বিলম্বিত করার চেষ্টা কিনা, বলতে পারছি না। তবে কিছুটা সে দিকেই যাচ্ছে।’ তখন বিচারক বলেন, ‘আসামিপক্ষ এতদিন সহযোগিতা করেছে। এখনও করবে।’ এরপর বুধবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি ঘোষণা করেন আদালত।








