ডিবি পরিচয়ে আদাবর থেকে ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১০ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:০৩আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:১৫

সালাম শিকদার (ছবি: সংগৃহীত) রাজধানীর আদাবর এলাকার একটি বাসা থেকে সালাম শিকদার (৪২) নামে এক ব্যবসায়ীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী। মঙ্গলবার (০৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার এই ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও থানা পুলিশ তা নেয়নি। বুধবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সালাম শিকদারের স্ত্রী লাভলী বেগম বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এই অভিযোগ করেন।

তারা আদাবরের ১ নম্বর সড়কের সাহাবুদ্দিনের দোতলা বাড়ির নীচতলায় ভাড়া থাকেন।

যারা বাসায় প্রবেশ করেছিল, তাদের একজনের কাছে অস্ত্র দেখেছেন লাভলী বেগম। এ প্রসঙ্গে লাভলী বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘তারা বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ভেতরে প্রবেশ করে। সবার চুল ছিল ছোট-ছোট। তাদের বয়স ৩০-৩৫ হবে। একজনের বয়স একটু বেশি।’ তবে কেউ কারও নাম বলেনি বলেও জানান সালামের স্ত্রী।

লাভলী বেগম বলেন, ‘আমি পোশাক কারখানায় চাকরি করি। মঙ্গলবার (০৯ জানুয়ারি) আমি অসুস্থ থাকায় দুপুরের খাবারের পর আর কারখানায় যাইনি। দুই সন্তানসহ স্বামী-স্ত্রী বাসায়ই ছিলাম। বিকালে বাসার দরজায় নক করা হয়। দরজা খুলে দিলে পাঁচজন লোক ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের দুই জনের গায়ে ঘিয়া রঙের জ্যাকেট, দুই জনের কালো এবং একজনের লাল জ্যাকেট ছিল। তারা এসেই আমার স্বামীর হাত-চোখ বেঁধে ফেলে। তারা জানতে চায় অস্ত্র কোথায়। তখন আমার স্বামী তাদের বলেন— আমাকে মেরে ফেললেও কোন অস্ত্র পাবেন না। আমি অস্ত্র পাবো কোথায়? এরপর তারা ঘরের ভেতরে তল্লাশি করে। কিন্তু বাসার ভেতরে তারা কিছুই পায়নি। এসময় তারা আমার স্বামীকে মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। মারধর দেখে আমার ছেলে ও মেয়ে কান্নাকাটি করে। মাগরিবের সময় তাকে চোখ বেঁধে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাদের পেছনে পেছনে যেতে নিষেধ করা হয়, গেলে আমাকেও নিয়ে যাবে। তাই আমি আর যেতে পারিনি। এরপর তাকে কোথায় নিয়ে গেছে আর খোঁজ পাইনি।’

লাভলী বেগম বলেন, ‘আমি তাদের কাছে জানতে চাইছিলাম আমার স্বামীকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা বলেছে, বরিশাল। ঘটনার পর আমি আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় গিয়েছি, তারা কোনও খোঁজ দিতে পারেনি। তারা কিছুই জানে না। জিডি করতে চাইলেও কোনও থানা জিডি নেয়নি। একজন আমাকে বললো— মিন্টোরোডে ডিবি অফিসে গিয়ে খোঁজ নিতে। এরপর আমি ডিবি অফিসে খোঁজ নিয়েছি, তারাও কিছু বলতে পারেনি।’

সালাম শিকদারের স্ত্রী লাভলী বেগম আদাবরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সালাম শিকদার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের থ্রি-পিস এনে তা দোকানে দোকানে পাইকারি বিক্রি করতেন। তাদের ১০ বছরের এক ছেলে ও ছয় বছরের এক মেয়ে রয়েছে।

সালাম শিকদারের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার মহেশপুর এলাকায়। তিনি বাকেরগঞ্জ এলাকায় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে লাভলী বেগম জানান। তবে কি পদে ছিলেন, তা লাভলী বেগম জানাতে পারেননি।

আদাবর থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এরশাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের থানায় এরকম কেউ জিডি করতে আসেননি। এলে অবশ্যই জিডি নেওয়া হবে।’

 

/এআরআর/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম