বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান এবং অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে বিবেচ্য বিষয় যা ছিল তা প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকউশন। সোমবার বিকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণের কপি পৌঁছায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের হাতে।
রায়ের পর্যবেক্ষণ থেকে যেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ রায় দেওয়া হয়েছে তা জানা যায়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়ে যেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—
(১) ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীকে দিয়ে ০২/০৬/১৯৯১ তারিখে প্রাইম মিনিস্টার অরফানেজ ফান্ডনামীয় সোনালী ব্যাংক রমনা শাখা ঢাকায় ৫১৪৬ চলতি হিসাব খুলেছিলেন কিনা?
(২) ওই হিসাবে ১৯৯১ সালের ৯ জুন ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক হতে ডিডি নং-১৫৩৩৩৬৭৯৭০ মূলে ১২ লাখ ৫৫ হাজার ইউএস ডলার জমা হয় কিনা?
(৩) উক্ত ১২ লাখ ৫৫ হাজার ডলারের সমপরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় চার কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা প্রাইম মিনিস্টার অরফানেজ ফান্ডের নামে মেয়াদি জমা রশিদ (এফডিআর) নং- ৯৮৪১১২ এ জমা হয়েছিল কিনা এবং ওই টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ টাকায় উন্নীত হয় কিনা?
(৪) উক্ত এফডিআরে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ টাকা পুনরায় ৫৪১৬ নং চলতি হিসাবে জমা রাখা হয় কিনা।
(৫) প্রধানমন্ত্রীর বর্ণিত এতিম তহবিল থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টনামীয় এসটিডি-৭ নং হিসাব থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা স্থানান্তরিত হয় কিনা এবং ওই এসটিডি ৭ নং হিসাব থেকে আসামি তারেক রহমান ও মমিনুর রহমান অবৈধভাবে টাকা প্রাইম ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন কিনা?
(৬) আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে কাজী কামাল প্রাইম ব্যাংক গুলশান শাখা থেকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিউ ইস্কাটন শাখায় টাকা স্থানান্তর করেন কিনা?
(৭) আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল অবৈধভাবে উক্ত টাকা আসামি শরফুদ্দিন আহমেদের ব্যাক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করতে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেন কিনা?
(৮) খালেদা জিয়াসহ মামলার অন্যান্য আসামিরা পরস্পর সহযোগিতায় অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশে এবং অন্যদের অবৈধভাবে লাভবান করার অসৎ মানসে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে টাকা স্থানান্তর করার কাজে সহায়তা করেন কিনা এবং ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাৎ করা হয় কিনা?
(৯) আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন কিনা?
(১০) প্রসিকিউশিন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণে সক্ষম হয়েছে কিনা?
(১১) আসামিরা শাস্তির যোগ্য কিনা?
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডদেশে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আসামিদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানা করা হয়। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ দণ্ডিত অন্য চার আসামি হলো- কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। দণ্ডিতদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক রয়েছেন।








