যাত্রাবাড়ীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই ছাত্রীর মা যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত শিক্ষক আইয়ুব আলীকে (৪৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসার জন্য ওই ছাত্রীর পরিবারকে চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল নূরুজ্জামান হাওলাদার অভিযুক্ত শিক্ষককে ‘ভালো মানুষ’ উল্লেখ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি তাকে ১৫ বছর ধরে চিনি। তিনি ভালো মানুষ, এসব করতে পারেন না। মেয়েটি ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাজ করেছে।’
ক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ কি, এর জবাবে তিনি বলেন, ‘এক ছেলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ওই মেয়ে কথা বলছিল। তখন ওই শিক্ষক তাকে বাধা দেয়। আমরা মেয়ের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। এমন ঘটনা কেন ঘটলো বুঝতে পারছি না।’
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আইডিয়াল স্কুলের গণিতের শিক্ষক আইয়ুব আলী (৪৪) তার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ১১৫/বি বাড়িতে ব্যাচ করে শিক্ষার্থীদের পড়ান। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই ছাত্রী শিক্ষকের কথা মতো সকাল সাড়ে ৮টায় তার বাসায় যায়। ছাত্রী বাসায় যাওয়ার কিছুক্ষণ পর শিক্ষকের স্ত্রী তার ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাইরে কাজে চলে যায়। তখন ছাত্রীকে একা পেয়ে তার গায়ে হাত দেয় ওই শিক্ষক।
এসময় ছাত্রী চিৎকার চেঁচামেচি করলে শিক্ষক আইয়ুব আলী তাকে ভয় দেখায় বিষয়টি যাতে কাউকে না বলে। এরপর শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীর বাসা থেকে বের হয়ে নিজের বাসায় গিয়ে কান্নাকাটি করে। তখন ছাত্রীর মা তার কাছে কান্নাকাটির বিষয় জানতে চাইলে মায়ের কাছে সে সবকিছু খুলে বলে। এরপর ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা স্কুলের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলে স্কুল থেকে বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য বলা হয়।
পরে তারা যাত্রাবাড়ী থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে মৌখিক অভিযোগ করে ছাত্রীর পরিবার। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় থানা পুলিশ তা লিখিত অভিযোগ হিসাবে গ্রহণ করে নিয়মিত মামলা দায়ের করে। গ্রেফতার করা হয় ওই শিক্ষককে।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা মামলা নিয়েছি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলা নম্বর ৬৮। আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান করেছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি ঘটনা অস্বীকার করেনি, মামলা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর জানা যাবে কি ঘটেছিল।’
ডিএমপির যাত্রাবাড়ী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তদন্তের পর মূল বিষয়টি বের হয়ে আসবে।’
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে লাঞ্ছনার অভিযোগ








