পুলিশের ঝুঁকিভাতাসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। বৈঠকে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী, র্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ, এসবি প্রধান মীর শহীদুল ইসলাম, পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন, পরিবেশ আইন, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ট্রাফিক আইন সংশোধন ও পুলিশের ঝুঁকিভাতা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া ২০১৭ এবং ২০১৮ সালের পুলিশ সপ্তাহে পুলিশকে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত দুই-তিন বছর ধরেই নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিল পুলিশ। ২০১৭ সালের পুলিশ সপ্তাহে এই আইনটি বাতিলের দাবি জানানো হয়। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বাতিলে সম্মতি না দেওয়ার কারণে ২০১৮ সালের পুলিশ সপ্তাহে কয়েকটি ধারা সংশোধন করার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে এই আইনে কোনও পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতন বা নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে তার তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসের নেতৃত্বে এবং মহানগর এলাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত করার কথা। এছাড়া এই আইনে মানসিক কষ্ট পাওয়ার একটি ধারা রয়েছে। বৈঠকে এসব ধারা সংশোধন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, পুলিশের ঝুঁকিভাতা নিয়ে কিছুটা বৈষম্যের মধ্যে রয়েছেন কর্মকর্তারা। ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঝুঁকিভাতা পান না। আর সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর বা সাব ইনস্পেক্টর যারা ঝুঁকি ভাতা পান, তাদের চাকরির বয়স হিসেবে সাধারণত ঝুঁকিভাতা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু যারা ঝুঁকিভাতা পান, তাদের পদোন্নতি হওয়ার পর থেকে নতুন করে সময় নির্ধারণ করা হয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্ট হয়। এসব জটিলতা দূর করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
একাধিক দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে বিষয়গুলো দ্রুত প্রতিকারের জন্য আবেদন করা হয়েছে। পুলিশের আরও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন দাবি নিয়েও কথা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রুত এসব জটিলতা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ২০১৭ সালের পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী পুলিশে পাঁচটি গ্রেড ওয়ান পদ সৃষ্টির ঘোষণা দেন। কিন্তু মাত্র দু’টি গ্রেড ওয়ান পদ সৃষ্টি হয়েছে। এই বছরের পুলিশ সপ্তাহেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় কেন এসব ফাইল আটকে আছে, তা জানতে চেয়েছিলেন। মঙ্গলবারের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়গুলো দ্রুত সুরাহা করার আবেদন জানানো হয়।
মঙ্গলবারের এই বৈঠক প্রসঙ্গে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ মন্তব্য করতে চাননি। এমনকী নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়েও কেউ মুখ খুলতে চাননি। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুলিশের অভ্যন্তরীণ দাবি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে কথা বলা নিষেধ রয়েছে।








