ফারমার্স ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় ওই ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতীসহ চার জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলম আদালতে আসামীদের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবীর আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে চার জনের প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীকে পাঁচ দিনের ও বাকি তিন আসামীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া অন্য আসামীরা হলেন- মো. মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ফারমার্স ব্যাংকের প্রথম প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়া উদ্দিন আহমেদ।
দুদকের ওই মামলায় মাহবুবুল হক চিশতীর স্ত্রী রুজী চিশতী এবং ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক ও বর্তমান সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলোয়ার হোসেনকেও আসামী করা হয়েছে।
রিমান্ড শুনানিতে দুদকের পক্ষে ছিলেন মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর ও আবুল হোসেন। অন্যদিকে, আসামী পক্ষে রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মাহফুজ মিয়া ও মেহেদী হাসান।
আজ মঙ্গলবার দুপুরেই রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে এই মামলার আসামিদের গ্রেফতার করে দুদক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ব্যাংকের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাহবুবুল হক চিশতী গুলশান শাখায় সঞ্চয়ী হিসাব খুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ নগদে ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা ও উত্তোলন করেছেন। তিনি তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে এবং তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন শাখার মোট ২৫টি হিসাবে মোট ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেন। হিসাবগুলোতে গ্রাহকদের হিসাব থেকে পাঠানো অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করে। তারা নিজেদের নামে কেনা ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করার অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করে।
আরও পড়ুন-
ফারমার্স ব্যাংকের চিশতীসহ ৪ জন গ্রেফতার








