আইন থাকার পরও বিধি প্রণয়ন না করায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভূমিবিরোধ সমস্যা সমাধানের কাজ গতি পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘যেসব ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি আইনের প্রভিশন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যথেষ্ট, সেসব ক্ষেত্রে বিধি প্রণয়নের অপেক্ষায় থেকে সমস্যা জিইয়ে রাখা ঠিক নয়। বিধি প্রণয়নের কাজ চলার পাশাপাশি আইনের মাধ্যমে যেসব সমস্যা সমাধান করা যায়, সেগুলো করা উচিত।’ মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্ট্রগ্রামের ভূমি সমস্যা নিষ্পত্তিকরণে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ ও বাধাগুলোয় নিরূপণে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিরাজ করছিল সংঘাতময় পরিস্থিতি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দেশের কোনও অঞ্চল বা কোনও জনগোষ্ঠীকে অস্থিতিশীল বা উন্নয়নের বাইরে রেখে কোনও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই উপলব্ধি থেকে ১৯৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দীর্ঘ দুই দশক যাবৎ বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসনের উদ্যোগ নেয়। সেই লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতাদের কয়েক দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। যার ফলে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা শান্তি চুক্তি নামে পরিচিত। এই ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম বড় একটি সাফল্য। কারণ এই চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘ দুই দশকের সংঘাতময় পরিস্থিতির অবসান ঘটে।’
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আব্দুর রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন তালুকদার প্রমুখ।








