শ্বাসরোধে শাকিলকে হত্যার কথা স্বীকার বন্ধু আরাফাতের

শেখ জাহাঙ্গীর আলম
১১ মে ২০১৮, ১৪:৩৬আপডেট : ১১ মে ২০১৮, ১৪:৪৬

 

হত্যা রেজাউল হোসেন শাকিলকে (১৮) শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তার বন্ধু আরাফাত হোসেন (১৭)। বুধবার (৯ মে) আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করেছে আরাফাত।  গুলশানে ‘টিনসেল টাউন’ নামের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্মী ছিল শাকিল। আর তিব্বত কোম্পানির গাড়ির গ্যারেজে কাজ করতো আরাফাত।

জবানবন্দিতে আরাফাত জানায়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার ৭ মে)সে সন্ধ্যার পর শাকিলের অফিসে যায়। সেখানে একসঙ্গে বসে দু’জন মিলে ইয়াবা সেবন করে। কৌশলে শাকিলকে চার ক্যান বিয়ার পান করায়।ওই সময় তারা সেলফি তোলে এবং শাকিলের প্রবাসী ফুফাতো ভাইয়ের মেসেঞ্জারে ছবিও পাঠায়। রাত ১১টার দিকে শাকিল নেশাগ্রস্ত ও অচেতন হয়ে গেলে ওই রুমে থাকা একটি দড়ি দিয়ে শাকিলে পা বেঁধে ফেলা হয়। আরেকটি দড়ি দিয়ে গলা বাঁধে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে আধা ঘণ্টা সে ওই দড়ি ধরে থাকে। শাকিলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পাশের রুমে  থাকা কম্পিউটারে রাতভর গান শুনে সময় পার করে সে। মঙ্গলবার (৮ মে) ভোর ৫টার দিকে শাকিলের গায়ের টি-শার্ট খুলে পরে এবং নিজের টি-শার্ট খুলে একটি ব্যাগে ঢুকিয়ে নেয় আরাফাত। পরে অফিসের মেইন গেটে তালা দিয়ে চাবিগুলো নিয়ে বের হয়ে যায় আরাফাত। পরিকল্পনা মোতাবেক সকাল ৭টার দিকে শাকিলের মোবাইল দিয়ে তার বাবাকে ফোন করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কয়েক দফা আলোচনা পর এক লাখ এবং পরে ৫০ হাজার টাকায় নেমে আসে।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন রাতে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন আরাফাত।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিজ্ঞাপনী সংস্থার অফিস থেকে  শাকিলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন রাতেই শাকিলের বাবা বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে নিকেতনে নিজ বাসা থেকে আরাফাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তার বাসা থেকে নিহতের শাকিলের মোবাইল ফোন দু’টি  উদ্ধার করা হয়।

শাকিল গুলশানের ওই অফিসে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন এবং অফিসেই থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায়। তার বাবা নূর-এ-নবী ঢাকায় একটি শুটিং হাউসে কাজ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং শাকিলের ফোন নম্বর ট্র্যাকিং করে আরাফাতের অবস্থান শনাক্ত করি। তারপর মধ্যরাতে নিকেতনের বাসা থেকে আরাফাতকে গ্রেফতার করা হয়।

শাকিলকে হত্যার দায় স্বীকার করে পুরো ঘটনা সম্পর্কে আরাফাত আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর কিশোর অপরাধী হিসেবে আদালত তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, আরাফাতের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে। সে তেজগাঁওয়ে তিব্বত কোম্পানির ভেতরে গাড়ির গ্যারেজে কাজ করে। গুলশানের নিকেতনের ২ নম্বর রোডের ১১৫ নম্বর বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দুই বছর ধরে শাকিলের সঙ্গে আরাফাতের বন্ধুত্ব। তারা একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করতো। এক সময় আরাফাতের কাছ থেকে শাকিল ২৫ হাজার টাকাও ধার নেয়। ইয়াবা কেনার টাকা ও দেনা-পাওনার হিসাব নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই বিরোধ থেকেই শাকিলকে হত্যার পরিকল্পনা করে আরাফাত।

 

 

 

/এসজেএ/এনআই/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম