খালেদা জিয়া অজ্ঞান হননি, তার সুগার লেভেল পড়ে গিয়েছিল: অ্যাটর্নি জেনারেল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১০ জুন ২০১৮, ১৬:৫২আপডেট : ১০ জুন ২০১৮, ১৮:৪০

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম (ছবি: ফোকাস বাংলা) অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া যে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন, এটা ঠিক নয়। কিংবা তিনি অজ্ঞান ছিলেন, এটাও ঠিক নয়। সুগার লেভেল পড়ে যাওয়ার পর তিনি দাঁড়ানো থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে চকোলেট খাইয়ে স্বাভাবিক করা হয়েছিল।’ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে আদালতে দেওয়া তার আইনজীবীদের বক্তব্য প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব কথা বলেন। তার অভিযোগ, আদালতের সহানুভূতি পাওয়ার জন্যই তারা (খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা) এমন রিপোর্ট দিয়েছেন। কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় রবিবার (১০ জুন) খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে নিজ কার্যালয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে যে বক্তব্য আদালতে তার আইনজীবীরা রেখেছেন, জানি এ নিয়ে তারা গণমাধ্যম মাতাতে অনেক কিছু বলবেন। তাই আদালতে যাওয়ার আগে আইজি প্রিজনের সঙ্গে আলাপ করেছি। তিনি আমাকে যে তথ্য দিয়েছেন, গত ৫ জুন ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে তার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল। সেজন্য তিনি যে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন, তা ঠিক নয়। অজ্ঞান ছিলেন, এটাও ঠিক না। এই বয়সে যার ডায়াবেটিস আছে তার সুগার লেভেল তো সারা দিন পর একটু এদিক-ওদিক হতেই পারে। তিনি অজ্ঞান হননি, তার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল। এই হলো আসল কথা।’

নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় জামিন আবেদনের শুনানির আগের দিন ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পেছনে উদ্দেশ্য দেখছেন মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া যদি অজ্ঞান হতেন তাহলে নিশ্চয়ই আইজি প্রিজনের কাছে রিপোর্ট থাকতো, সিভিল সার্জন জানতো। এগুলো নিয়ে তারা একটি জনমত সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। চিকিৎসকরাও যদি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান তাহলে তা দুঃখজনক ব্যাপার। তারা বলছেন, সাত-আট মিনিট অজ্ঞান ছিলেন। অথচ তিনি অজ্ঞান হননি। ৫ জুন তিনি যদি অজ্ঞান হতেন তাহলে সেদিনই বিষয়টি মিডিয়ায় আসতো। কিন্তু তা আসেনি। আজ ১০ জুন। এ বিষয়টি ঘোলাটে করার চেষ্টা হচ্ছে। একটা বিভ্রান্তকর তথ্য দেওয়া হচ্ছে।’

ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দাবি, গত ৫ জুন খালেদা জিয়ার ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য, ‘এটাও ঠিক না। তিনি অসুস্থ হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে স্ক্যান করানো হতো। তার চিকিৎসায় সরকার অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনও আসামির ব্যাপারে আপনারা দেখেছেন ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের জেলে যেতে দেওয়া হয়? তারা যেন কোনোরকম দোষারোপ করতে না পারে, সেজন্যই সরকার বেশ কয়েকবার তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের জেলে যেতে অনুমতি দিয়েছে।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া খালেদা জিয়ার জামিন মিলবে না।’ এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য, ‘এটা শুধু মিথ্যা কথা নয়, দুঃখজনক ও আদালত অবমাননাকর। আদালত কারও কথায় চলে না। আমার কথা বা সরকারের কথায় চলার তো প্রশ্নেই আসে না। কাজেই মনে হচ্ছে, তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এ কথাগুলো বলছেন।’

বিএনপির আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচারকরা তাদের বিবেক, বিচার, বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিচালিত হবেন। খালেদা জিয়াকে তারা (হাইকোর্ট) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন দিয়েছেন। সুতরাং এ রকম কোনও অভিযোগ করা অহেতুক যে অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া কোনও জামিন হবে না। বহু মামলায় তারা জামিন নিয়েছেন ও নিচ্ছেন।’

মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগ এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে করা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মামলা নিয়েও কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি জানান, দুটি মামলাই করেছেন দুজন। তার বক্তব্য, ‘খালেদা জিয়ার কাবিননামা, এসএসসি সার্টিফিকেট ও অন্য এক জায়গায় অন্যরকম জন্ম তারিখ। সবশেষ তিনি জন্মদিন দেখিয়েছেন ১৫ আগস্ট, যেদিন আমাদের শোক দিবস বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার দিনে ঘটা করে জন্মদিন পালন করায় আহত হয়ে এক ব্যক্তি একটি মামলা করেছেন। এতে ম্যাজিস্ট্রেট একটি ওয়ারেন্ট অব অ্যারেস্ট তামিলের অর্ডার দিয়েছেন। নিয়ম হলো, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এটা তামিল করা হয় ও তিনি অন্য মামলায় আটক থাকলে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। তিনি নিজে থেকেই আবেদন করেছেন আমাকে এই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো ও জামিন দেওয়া হোক।’

এক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট বলেছেন, ‘আমাদের এমন কোনও বিধান নেই যে আসামি পক্ষের আবেদনে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো যায়। সেই আদেশের বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে এসেছেন।’

হাইকোর্টের বক্তব্য, ‘ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ ঠিক না। তাকে এই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো যেতে পারে যেহেতু সে অন্য মামলায় জেলে আছে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘এই মামলার, এই রায়ের বরাত দিয়ে তারা চৌদ্দগ্রামের একটি মামলায় একই আদেশ পাওয়ার জন্য হাইকোর্টে এসেছেন। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই মামলায় আসামির দরখাস্তের পর যে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো যায় এমন আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপিলে যাবো। আজকেই আপিল ফাইল হচ্ছে। ওই রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেয়েছি ও আদালতকে জানিয়েছি, সেই রায়ের বিরুদ্ধে আজই আপিল বিভাগে যাচ্ছি।’

/বিআই/জেএইচ/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম