রাজধানীর শান্তিনগর শাখা থেকে বেসিক ব্যাংকের ৪০ কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িত রূপসা সার্ভেয়ারের প্রধান সার্ভেয়ার ও ম্যানেজিং পার্টনার মো. শাহজাহান আলীর জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ মামলার তার জামিন আবেদনও নামঞ্জুরের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ সংক্রান্ত রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কে এম. রিয়াদ সলিমুল্লাহ। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ কে এম ফজলুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রোনা নাহারিন ও একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।
এর আগে ২০১৬ সালের গত ৮ সেপ্টেম্বর শাহজাহান আলীকে জামিন কেন প্রদান করা হবে না, সে মর্মে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, বেসিক ব্যাংকের শান্তিনগর শাখা থেকে এসডি সার্ভেয়ার ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অংশীদার মো. ইকবাল হোসেন ভুঁইয়া, সার্ভেয়ার ও অংশীদার মো. ফারুক ও রূপসা সার্ভেয়ারের প্রধান সার্ভেয়ার ও ম্যানেজিং পার্টনার মো. শাহজাহান আলী মিলে সৈয়দ ট্রেডার্সের বন্ধকের জন্য প্রস্তাবিত ২২৮৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ সম্পত্তির মোট বাজার মূল্য ৩৬ কোটি ৭৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা দেখানো হয়। যার তাৎক্ষণাৎ মূল্য ২৯ কোটি ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা দেখিয়ে ঋণ গৃহীতাকে মর্টগেজ দেওয়া হয়। সে অনুসারে ৪০ কোটি টাকা ঋণ তুলে আত্মসাতে সহায়তা করা হয়।
প্রথমে সৈয়দ ট্রেডার্সের নামে ১৭ কোটি, পরে তা বাড়িয়ে ৩০ কোটি সবশেষে আরও বাড়িয়ে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। পরে সুদসহ ওই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৭ কোটি ৫২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪টাকা। এরপর এক তদন্তে দেখা যায়, বন্ধকী সম্পত্তির বাজার মূল্য ১৮ কোটি ৬৭ হাজার ২০ হাজার টাকা এবং তাৎক্ষণিক বিক্রয়মূল্য ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে অনুসন্ধান শেষে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক এ কে এম ফজলে হোসেন পল্টন থানায় ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন, মেসার্স সৈয়দ ট্রেডার্সের ম্যানেজিং পার্টনার সৈয়দ মাহবুবুল গণি, পরিচালক সুলতান আহমেদ, সার্ভেয়ার ও অংশীদার মো. ফারুক, রূপসা সার্ভেয়ারের প্রধান সার্ভেয়ার ও ম্যানেজিং পার্টনার মো. শাহজাহান আলী, বেসিক ব্যাংক শান্তিনগর শাখার সাবেক উপ-মহা ব্যবস্থাপক মো. মোজাম্মেল হোসেন, মহাব্যবস্থাপক মো. আলী ওরফে মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, এসডি সার্ভে ফার্মের ম্যানেজিং পার্টনার ইকবাল হোসেন ভুঁইয়া, বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম সাজেদুর রহমান ও ব্যাংকটির সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সভাপতি (ক্রেডিট কমিটি) শেখ মঞ্জুর মোর্শেদ।
আসামির জামিন আবেদন করলে ২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন না মঞ্জুর করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শাহজাহান আলী হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত তার জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। যা শুনানি শেষে মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।








