নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সড়কে গাড়ি থামিয়ে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করছেন। তারা সাধারণ গাড়িচালক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী-এমপি-মন্ত্রীর গাড়ি থামিয়েও লাইসেন্সসহ গাড়ির কাগজপত্র দেখছেন। তবে, অন্যের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করলেও এবার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর দায়ে সার্জেন্টের হাতে ধরা পড়লেন আন্দোলনকারীদেরই একজন।
শনিবার বিকাল তিনটার দিকে সার্জেন্টের সঙ্গে ওই আন্দোলকারীর কথোপকথনের একটি ভিডিও আপলোড করে পুলিশ কনস্টেবল মো. বেলাল আহমেদ লিখেছেন, ‘দেখুন আন্দোলনকারীর অবস্থা, গাড়ির কাগজ, লাইসেন্স, হেলমেট কোনোটাই নেই। এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আপনারাই বলুন।’
ভিডিওতে দেখা গেছে, আন্দোলনকারী দুই শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের থামিয়ে সার্জেন্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চাইলে, ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে এসেছেন বলে জানান। কথোপকথন হুবহু তুলে ধরা হলো।
সার্জেন্ট: ড্রাইভিং লাইসেন্স বের করেন। আপনার হেলমেট কোথায়?
শিক্ষার্থী: এগজাম ছিল।
সার্জেন্ট: আচ্ছা ভালো কথা, আপনার লাইসেন্সটা বের করেন।
শিক্ষার্থী: লাইসেন্স করতে দিয়েছি।
সার্জেন্ট: লাইসেন্স করতে দিলে একটা কাগজ দেয়, টোকেন দেয়। সেগুলো বের করুন।
শিক্ষার্থী: (হাসি)।
সার্জেন্ট: হাসতেছেন কেন?
শিক্ষার্থী: নাই স্যার।
সার্জেন্ট: থাকবে না কেন?
শিক্ষার্থী: নাই স্যার, মাফ করে দিন।
সার্জেন্ট: আইন সবার জন্য সমান।
এরপর সার্জেন্ট লার্নার কার্ড বের করতে বললে ওই শিক্ষার্থী লাইসেন্স বা লার্নার কার্ড কোনোটাই তার কাছে নেই উল্লেখ করে ক্ষমা চান।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। গত সাত দিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে আসছে।








