ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাটের উপস্থিতিতে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক অধ্যাপক বদিউল আলম মজুমদারের বাসায় হামলার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে আলামতও সংগ্রহ করা হয়ছে। অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতা শঙ্কা প্রকাশ করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বদিউল আলম মজুমদার। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন মীর বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় বদিউল আলম মোহাম্মদ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘৪ আগস্ট সন্ধ্যয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট আমার মোহাম্মদপুরের বাসায় তার বিদায়ী নৈশভোজে আসেন। রাত আনুমানিক ১১ টার সময় বার্নিকাট যখন আমার বাসা থেকে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন, তখন একদল দুর্বৃত্ত যাদের সংখ্যা আনুমানিক ৩০/৪ ০ জন গাড়িতে হামলা করে। তারা বার্নিকাটের ড্রাইভার ও আমার ছেলের ওপর আক্রমণ করে। দুর্বৃত্তরা বার্নিকাটের গাড়ির পেছন পেছন ধাওয়া করে ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। পিস্তল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এসেছিল। বার্নিকাটের গাড়িতে আগুন দেওয়ারও উসকানি দিচ্ছিল। বার্নিকাটের গাড়ি দ্রুত চলে যাওয়ার পর দুর্বৃত্তরা আমার দোতলার বাসায় হামলা চালায়। তারা ইট-পাটকেল ছুড়ে জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে। দুর্বৃত্তরা গেট ভেঙে বাসায় ঢোকারও চেষ্টা করে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ‘৯৯৯' নম্বরে কল করি। আক্রমণকারীরা প্রায় আধা ঘণ্টা আমাদের বাসার সামনে থাকে। আমাদের গালি দিতে থাকে। দুর্বৃত্তরা দিনের বেলায় আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। তারা যদি গেট ভেঙে আমাদের বাসায় ঢুকতে সক্ষম হতো, তাহলে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। তাই আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
এই প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘রবিবার ১২টার দিকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ইকবাল রোডে আমার বাসায় আসে। জানালার ভাঙা কাঁচ ও ইট আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে নিয়ে যায় পুলিশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। কোনও প্রয়োজন হলে ফোন দিতেও বলেছে পুলিশ।’
তদন্ত প্রসঙ্গে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন মীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে বদিউল আলম অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা সামগ্রিক বিষয়টি বিবেচনা করে তদন্ত করছি।’ তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি বলেও তিনি।








