নতুন পরিকল্পনা ছাড়াই বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ: একদিনে ২২ হাজার ৭৯৬ মামলা

জামাল উদ্দিন ও শেখ জাহাঙ্গীর আলম
০৬ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৪০আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৪৪

বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহে যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে শুরু করা ট্রাফিকের বিশেষ সপ্তাহে নতুন কোনও পরিকল্পনা নেই পুলিশের। তবে ট্রাফিকের বিদ্যমান আইন কোনও শিথিলতা ছাড়াই প্রয়োগের সিদ্ধান্তে পুলিশ অনড় থাকবে। এবারই প্রথম ট্রাফিক সপ্তাহে পুলিশের রিজার্ভ ফোর্স থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে সারাদেশে। পুলিশ জানায়, ট্রাফিক আইন অমান্য ছাড়াও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে সরকারি-বেসরকারি সবধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, ট্রাফিক সপ্তাহের প্রথম দিনে (৫ আগস্ট) সারাদেশে বিভিন্ন যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে ২২ হাজার ৭৯৬টি মামলা করা হয়েছে।

‘ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করুন; ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি জাতির সভ্যতার প্রতীক’ স্লোগান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রবিবার (৫ আগস্ট) থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হয়। পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, এই বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহে নতুন কোনও পরিকল্পনা নেই। ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা বাড়াতে যা করা দরকার, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ফিটনেস, রুট পারমিট, গাড়ি ও চালকের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাদের নেই, মোটরসাইকেলে তিনজন ও হেলমেট ছাড়া যারা সড়কে নামেন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান শক্তভাবে শুরু করেছি। আমরা আইনের কঠোর প্রয়োগ করছি। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার জন্য লিফলেট দিচ্ছি।’ 

ট্রাফিক সপ্তাহ

নতুন কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘নতুন কিছু নয়। আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি অনেক বেশি পরিমাণ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। চেকপোস্টগুলোতে কাজ করার জন্য রাজারবাগ ও মিরপুর পুলিশ লাইন থেকে রিজার্ভ ফোর্স থেকে অতিরিক্ত পুলিশ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত চেকপোস্টের পাশাপাশি আরও নতুন চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে ট্রাফিকের ৪৮টির মতো চেকপোস্ট রয়েছে। প্রত্যেকটি চেকপোস্টেই ট্রাফিক ও রিজার্ভের ১০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য কাজ করছেন।’

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের (উত্তর) উপ-কমিশনার (ডিসি) প্রবীর কুমার রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'সড়কে ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন কোনও যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। আইন সবাইকে মানতে হবে। ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে এসব বিষয় কঠোর ভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।’

পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগের এআইজি মো. সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়াও ট্রাফিকের বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার উদ্দেশ্যেই ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। জানামতে এ নিয়ে নতুন কোনও পরিকল্পনা নেই।’

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পথচারীরা যেন রাস্তা পারাপারের সময় ফুটওভার বিজ ব্যবহার করে শৃঙ্খলার সঙ্গে যানবাহন চলাচল করে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ছাড়াও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সদস্যরা সড়কে টহল দিচ্ছেন। যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করছেন। সোমবার রাজধানীর বনানীতে ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রুট পারমিট, ফিটনেস বিহীন ও লাইসেন্স বিহীন মোটরযানের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। যারা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছেন না, তাদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের জন্য বাধ্য করা হচ্ছে। শাস্তির পরিবর্তে চালক ও পথচারীদের আইন মেনে চলতে ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমরা কাজ করছি।’

ট্রাফিক সপ্তাহে সড়ক

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক মেজর আব্দুল্লাহ আল মেহেদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। সবাই যেন ট্রাফিক আইন মেনে চলে এবং সড়কে কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য র‌্যাব সদস্যরাও রাজধানীজুড়ে নজরদারি করছেন। জনমানুষের সচেতনতা  বাড়ানোর জন্য ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব কাজ করছে।’

পুলিশ সদর দফতর সুত্র জানায়, ট্রাফিক সপ্তাহের প্রথম দিনে (৫ আগস্ট) সারাদেশে বিভিন্ন যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে ২২ হাজার ৭৯৬টি মামলা করা হয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা মহানগরীতেই প্রথম দিন ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাত হাজার ৮১টি মামলা করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ৪২ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। দ্বিতীয় দিনেও ঢাকা মহানগরীতে অভিযানে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিন হাজার ২৪০টি মামলা করেছে ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ। আটক করা হয়েছে ৫২টি মোটরসাইকেল।

ট্রাফিক সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘পুলিশ সপ্তাহের মতো প্রতিবছর আমরা ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করি। এর ধারাবাহিকতায় সরকারের নির্দেশে রবিবার (৫ আগস্ট) থেকে ৭ দিন ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করা হবে। সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক আইন ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন করাটাই এই ট্রাফিক সপ্তাহের মূল উদ্দেশ্য। একটি দেশের সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে চারটি বিষয়ের ওপর। ট্রাফিক অ্যাডুকেশন, ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্রাফিক এনভায়ারনর্মেন্ট ও ট্রাফিক ইনফোর্সমেন্টের ওপর। যা আমাদের দেশে সঠিকভাবে নেই।’

/এমএনএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান