আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের চিকিৎসার জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। শনিবার সকালে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা-কর্তৃপক্ষের কাছে এ আবেদন জানানো হয়েছে।
শহিদুল আলমের সহকর্মী সায়দিয়া গুলরুখ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শহিদুল আলমের সঙ্গে ঈদের দিন কারাগারে গিয়ে আমরা দেখা করেছি। তখন শহিদুল আলমকে অসুস্থ দেখেছি। তিনি চোখের সমস্যা ছাড়াও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। তখনই তারা কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসা দিতে অনুরোধ করেন। পরে চিকিৎসা দিতে লিখিতভাবে ই-মেইলে আবেদন পাঠানো হয়েছে আইনজীবীর পক্ষ থেকে। শনিবার সরাসরি গিয়ে কারা-কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
কোথায় কোন হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে আবেদন করা হয়েছে জানতে চাইলে সায়দিয়া গুলরুখ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শহিদুল আলম যেন ভালো চিকিৎসা পান, সেজন্য নিয়মানুযায়ী যেকোনও হাসপাতালে তার চিকিৎসা করার আবেদন করেছি।’
এদিকে, শহিদুল আলমের চিকিৎসার আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে কিভাবে শহিদুল আলমের স্বজনরা আবেদন করেছেন, জানি না। তবে শনিবার চিকিৎসার বিষয়ে একটি আবেদন পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘শহিদুল আলম বর্তমানে কারা হাসপাতালেই চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। কারা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলবে। তারা বাইরের হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করলে ও পরামর্শ দিলে কারা কর্তৃপক্ষ সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।’
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে উসকানিমূলক প্রচারণার অভিযোগে গত ৫ আগস্ট রাতে ধানমন্ডির বাসা থেকে শহিদুল আলমকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন ৬ আগস্ট বিকালে ডিবির (উত্তর) পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে রমনা থানায় আইসিটি অ্যাক্টে একটি মামলা (নং-৫) দায়ের করেন। মামলায় ফেসবুকে গুজব ও উসকানি ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। এরপর সাতদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। সাত দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এরপর থেকেই তিনি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাগারে রয়েছেন।








