সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ল' পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে তার খালাসের আবেদন করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান। তিনি যুক্তি উপস্থাপনে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে বাবরকে নির্দোষ দাবি করেন। বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকের পাশে অবস্থিত ঢাকার দ্রুত বিচার আদালতে যুক্তিতর্ক শুনানির সময় তিনি বাবরের খালাসের আবেদন জানান।
লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি খণ্ডন করে মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, ‘এই মামলাটি ভিন্ন একটি মামলা। এই মামলার সঙ্গে অন্য কোনও রেফারেন্স আসবে না। মূলত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাটি দুটি কারণে দায়ের করা হয়েছে। এর একটি শেখ হাসিনাসহ অনেককে হত্যা করা, দ্বিতীয় বাংলাদেশকে পাকিস্তান রাষ্ট্র তৈরি করার অভিযোগে। এটি কোনও সাধরণ ঘটনা নয়। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি ণ্ডন শেষ না হওয়ায় বিচারক আগামী ১০, ১১,ও ১২ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
বুধবার দুপুর ১২টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু করে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে শেষ হয়।এ নিয়ে যুক্তি উপস্থাপনের ১১৪টি কার্যদিবস চলছে। তার মধ্যে ৯০ কার্যদিবসে আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করেছে। বাকি দিনগুলো রাষ্ট্রপক্ষ থেকে উপস্থাপন তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট মতিঝিল থানার এসআই শরীফ ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা (নং-৯৭) দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ৯ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে সিএমএম আদালতে দু’টি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন সিআইডির সিনিয়র এএসপি ফজলুল কবির। ওই বছরই মামলা দু’টির কার্যক্রম দ্রুত বিচার আদালত-১-এ স্থানাস্তর করা হয়। এ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের ২৯/১১ (হত্যা),ও ৩০/১১ (বিস্ফোরক) মামলা দু’টির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর ২০০৯ সালের ২৫ জুন এ মামলার অধিকতর তদন্তের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই বছরের ৩ আগস্ট আদালত অধিকতর তদন্তের আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৩০জনকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ২ জুলাই আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দ। অধিকতর তদন্তে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) পাশাপাশি হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে পান তিনি।








