সার্বক্ষণিক নজরদারিতে মিরপুর বিআরটিএতে দালালের দৌরাত্ম্য কমেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল ইসলাম। তিনি জানান, এখন মিরপুর বিআরটিএতে দালাল নেই। সেবাপ্রার্থীরা নির্বিঘ্নে সেবা নিচ্ছেন। সেবাপ্রার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে।
মিরপুর বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল ইসলাম জানান, গত ১০ দিনে মিরপুর বিআরটিএ’র কার্যালয়ে নানা অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মামলা হয়েছে ২৩০টি। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ১০ জন দালালকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ৫ জন দালালকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বিআরটিএ কার্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূল ভবনের প্রবেশ পথে স্থাপিত শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের একটি কনফেকশনারি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএ’র সামনে ফুটপাত দখল করে থাকা দোকানগুলো তুলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ ছিল এসব দোকান দালালদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।’
ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এর দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শে বিআরটিএতে পরিবর্তন আনতে ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। বিআরটিএকে সেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল ইসলাম মিরপুর বিআরটিএতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।
রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) মিরপুর বিআরটিএ ঘুরে দেখা গেছে সেবা গ্রহীতাদের ভিড়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই গাড়ি পরীক্ষা করছেন। ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ফিটনেসের জন্য যেসব গাড়ি আসছে সেগুলো কাউন্টারে টেকআপ করার আগেই ম্যাজিস্ট্রেট চেকআপ করছেন। ভাড়ার তালিকা টাঙ্গানো আছে কিনা, রঙ করা কিনা, লুকিং গ্লাস আছে কিনা, প্রতিবন্ধী, মহিলা ও শিশুদের জন্য সংরক্ষিত আসন সম্বলিত স্টিকার আছে কিনা, সিট পরিষ্কার কিনা, ফ্যান সচল কিনা, অতিরিক্ত সিট লাগানো কিনা ইত্যাদি যাচাই করে দেখছেন। যদি কোনও সমস্যা পাওয়া যায়, তবে গাড়িকে জরিমানা করে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ট্রাকের বডি বাড়ানো থাকলে জরিমানা করা হচ্ছে। সিএনজি অটোরিকশার মিটার না থাকলে বা নষ্ট থাকলে জরিমানা করে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় বিআরটিএ’র অনিয়ম দূর করতে নতুন করে ১১ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর পর থেকে ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। এর পাশাপাশি ঢাকা মহানগরে বিআরটিএ’র তিনটি সার্কেলে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট।
উল্লেখ্য, মিরপুর বিআরটিএ’র কার্যালয়ে গত ৩৪ দিনে ১১৯ জন দালালকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।








