ঢাকার কেরানীগঞ্জের পোস্তগোলা ব্রিজের ঢালে টোল বাড়ানোকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত সোহেল ট্রাকের হেলপার ছিলেন। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। সোহেলের শ্যালক তানজিল বাংলা ট্রিবিউনকে এ কথা জানান। সোহেল হাসনাবাদ এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ৯ জন। সংঘর্ষে আহত বিল্লালের ভাতিজা শাহবুদ্দিন জানান, ‘সোহেল আগে পোস্তগোলা ব্রিজের ঢালে একটি সয়াবিন তেলের (মুদি দোকানে) কাজ করতেন। কোরবানি ঈদের পর তিনি ট্রাকে হেলপারির কাজ শুরু করেন। শুক্রবার সকালে সংঘর্ষ শুরুর সময় তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় পুলিশ বিক্ষুব্ধ হয়ে গুলি ছুড়ছিল। তখন একটি গুলি সোহেলের বুকে ও পেটে এসে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহেলের মৃত্যু হয়।’
গুলিবিদ্ধ বিল্লাল একটি তারকাঁটা কারখানায় কাজ করেন। পোস্তগোলার হাসনাবাদ এলাকাতেই তিনি বসবাস করেন। শুক্রবার সকালে ব্রিজের ঢালে একটি হোটেলে সকালের নাস্তা করছিলেন। নাস্তা শেষে হোটেল থেকে বের হলে শ্রমিক-পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে পড়েন তিনি। এ সময় পুলিশের ছোড়া ছররা গুলি তার পিঠে লাগে।
ঢাকা মেডিক্যালে কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ বিল্লালের স্বজনেরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বিল্লালের ভাবি নাজমা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘হাসনাবাদে আমরা পরিবার নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করি। সংঘর্ষের সময় বিল্লাল পাশের হোটেলে নাস্তা করছিল। আমিও গণ্ডগোল দেখতে আসি। পাশের একটি ফার্মেসি দোকানে দাঁড়িয়েছিলাম। তখন সকাল ৯টা বাজে। শ্রমিকদের ওপর পুলিশ যখন গুলি ছোড়ে তখন এক লোক আমাকে ঠেলে ওই ফার্মেসির ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর অনেকেই পুলিশের গুলিতে আহত হয়। সেখানে দেখি আমার দেবরও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তখন তাকে পাশের হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ব্যান্ডেজ করলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসি। ডাক্তার কয়েকটি পরীক্ষা দিয়েছে। সেগুলো দেখে পরবর্তী চিকিৎসা দেবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।’
আন্দোলনের সঙ্গে বিল্লালের কোনও সম্পৃক্তাতা নেই বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
পোস্তগোলা ব্রিজে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ১, গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢামেকে ৯







