পুলিশের গুলিতে ট্রাক শ্রমিক সোহেল হাওলাদারের মৃত্যু হয়নি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পুলিশের গুলিতে নয়, পোস্তগোলা ব্রিজের টোল প্লাজার ইজারাদার খোরশেদ আলমের লোকজনের গুলিতে সোহেল মারা গেছেন।’
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ মিজান শফিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ট্রাক শ্রমিক সোহেল কার গুলিতে নিহত হয়েছে সেটি এখনই বলা মুশকিল। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে বলা যাবে। শ্রমিকদের মধ্যে থেকে অনেকেই কয়েকজনের নাম বলেছে। আমরা সেটিও তদন্ত করে দেখছি।’
ঢাকার কেরানীগঞ্জের পোস্তগোলা ব্রিজের ঢালে টোল বাড়ানোকে কেন্দ্র করে শুক্রবার শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হন ট্রাকের হেলপার সোহেল। এ ঘটনায় আর ৯ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জানামতে ২৫-৩০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। ’
এসপি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশের ওপর ট্রাক চালিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি এটি সাধারণ শ্রমিকরা করেনি। শ্রমিকদের আন্দোলনের ভেতরে অন্য কেউ প্রবেশ করে এই হামলা করতে পারে বলে ধারণা করছি। ইনকোরিয়া একটি হোটেলের পাশে আগুন জ্বেলে সেখানে গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। এগুলো শ্রমিকদের দ্বারা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিকরা যখন রাস্তা অবরোধ করে, আন্দোলন করে, তখন তাদের বুঝিয়ে বললে তারা অবরোধ তুলে নেয়। রাস্তা খুলে দেয়। পুলিশের ওপর হামলা সাধারণ শ্রমিকরা করেনি বলে আমি বিশ্বাস করি। এ পর্যন্ত আমাদের ১২/১৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আরও আহত থাকতে পারে।’
সোহেলের স্ত্রী লাকী আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে আমার স্বামী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। তাকে ট্রাক শ্রমিকরা আন্দোলনে যেতে বলেছিল। তাই সে আজ ভোরেই সেখানে গিয়েছিল। সকাল ১০টার সময় খবর পাই সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’
সোহেলের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে। পোস্তগোলার হাসনাবাদ এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তার রাব্বী হাসান তামীম নামে আড়াই বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
সোহেল এর আগে হাসনাবাদ এলাকায় জাহাঙ্গীর মিয়ার পাইকারি তেলের দোকানে কাজ করতেন। কোরবানি ঈদের পর ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজে যোগ দেয়। বিভিন্ন জায়গায় ইট বালু মালামাল নিয়ে যেতেন তিনি।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে কথা হয় সোহেলের শ্যালক মোহাম্মদ তানজিল হোসেন মিরাজের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সকালে আমি বাসায় ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ আমার বোন ডাক দেয় এবং বলে, বাইরে ঝামেলা হচ্ছে, গোলাগুলি হচ্ছে, তোমার দুলাভাই সেখানে গেছে। তাকে খুঁজে বাসায় নিয়ে আসো। আমি হাত মুখ না ধুয়েই, বাসা থেকে বের হয়ে পোস্তগোলা ব্রিজের ঢালে যাই। সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম, আমার পাশে আরও দুজন দাঁড়িয়ে ছিল। পুলিশ গুলি ছুড়লে আমার পাশে থাকা একজনের গায়ে গুলি লাগলে সে পড়ে যায়। আমি তখন সরে বিআরটিএ-র সামনে গেলে দেখি আমার বাবা ও ভাই কাঁদতে কাঁদতে আসছে। বড় ভাই তখন বলে দুলাভাই মারা গেছে। তখন আমি গিয়ে দেখি রাস্তায় দুলাভাইয়ের লাশ।’
নিহত সোহেলের শ্বশুর মোশারফ সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় হাসনাবাদ এলাকার আশপাশের এলাকার বাসিন্দা যারাই রাস্তায় এসেছেন তাদেরকেই লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছুড়েছে। এতে অনেকেই আহত হয়েছেন। আহতের মধ্যে পথচারী ও সাধারণ মানুষও ছিল।
আরও পড়ুন:
বাড়ি থেকে বের হয়েই গুলিতে প্রাণ হারান সোহেল
পোস্তগোলা ব্রিজে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ১, গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢামেকে ৯







